প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করে তাঁর ঘনিষ্ঠদের হেনস্থা করা হচ্ছে— এই মারাত্মক অভিযোগ তুলে সোশাল মিডিয়ায় সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল ও ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতিসক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে স্পষ্ট লিখেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিআইডি (CID) এবং এসটিএফ (STF) সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনো উপযুক্ত আইনি নোটিস ছাড়াই এক স্বৈরাচারী আচরণ চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে তাঁর নিজের অফিসের কর্মী, ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২৫ জনকে হঠাৎ হঠাৎ তলব করা হচ্ছে। অনেককে আবার কোনো আইনি কারণ না দেখিয়েই রাস্তা বা বাড়ি থেকে এলোমেলোভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের শীর্ষনেতার অভিযোগ, এই তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের আসল উদ্দেশ্য সত্য উদ্ঘাটন করা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা। তিনি পোস্টে দাবি করেন, আটকে রাখা ব্যক্তিদের ক্রমাগত ভয় দেখানো হচ্ছে এবং মানসিক ও শারীরিক হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মূল লক্ষ্য একটাই— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাতে তাঁরা কোনো মিথ্যা ও সাজানো জবানবন্দি দিতে রাজি হন, তার জন্য তদন্তকারীরা লাগাতার চাপ সৃষ্টি করছেন। মৌলিক আইনি অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই হেনস্থা চালানো হচ্ছে বলে তিনি সরব হয়েছেন।

ভোটের আবহ হোক বা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক পোস্টের পর বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন বিভিন্ন মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতার ওপর তদন্তের পরিধি বাড়ছে, ঠিক তখনই দলের সেনাপতির এই সরাসরি আইনি এজেন্সি ও প্রশাসনের একাংশকে কাঠগড়ায় তোলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।