প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-করোনা মহামারীর সময়ে ডায়মন্ড হারবারে হওয়া মেগা কোভিড টেস্টিং ড্রাইভের আড়ালে কি লুকিয়ে ছিল এক বিরাট জালিয়াতি? এবার এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিয়ামক সংস্থা জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই মেগা দুর্নীতির তদন্তভার এবার সরাসরি তুলে দেওয়া হলো রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের (WBMC) হাতে।গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) এই মেগা দুর্নীতির মূল অভিযোগকারী তথা ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে হাজির হয়ে নিজের বয়ান ও বিস্ফোরক সাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন। ফলে এই ঘটনায় ওপার এবং এপার বাংলা—উভয় রাজনৈতিক মহলেই তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে করোনা মহামারীর তৃতীয় তরঙ্গের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে এক দিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ‘র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট’ করার দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দাবি, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই টেস্টিং ড্রাইভে চরম অনিয়ম চালানো হয়। করোনা পরীক্ষার জন্য কোনো অনুমোদিত ল্যাব বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন না। অভিযোগ, সিভিক ভলেন্টিয়ার, পুলিশ কনস্টেবল এবং আশা কর্মীদের দিয়ে বেআইনিভাবে এই মেগা টেস্টিং করানো হয়েছিল। মাত্র ২৬ জন চিকিৎসকের পক্ষে এক দিনে ৫৩ হাজারের বেশি টেস্ট করা অসম্ভব ছিল। দাবি করা হয়েছে, আইসিএমআর (ICMR) পোর্টালে মাত্র ২২ হাজার টেস্টের ডেটা আপলোড করা হয়েছিল, বাকি ৩১ হাজার রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং জাল কিট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন এই বিষয়টিকে চরম গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে, তদন্তে যুক্ত চিকিৎসকরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন আজীবনের জন্য বাতিল হতে পারে।

কোভিড কেলেঙ্কারির পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ হেলথ ক্যাম্প নিয়েও রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিজিৎ দাস। ববির অভিযোগ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তিনি দাবি করেছেন, কোনো এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি বা পর্যাপ্ত যোগ্যতা ছাড়াই একাধিক ‘হাতুড়ে’ চিকিৎসককে দিয়ে ওই ক্যাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের ভুল চিকিৎসা করানো হতো। ভুল চিকিৎসার কারণে বহু রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অঙ্গহানি পর্যন্ত করতে হয়েছে! বুধবার রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে এই দুই মামলারই সপক্ষে সমস্ত নথিপত্র এবং প্রমাণ পেশ করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। তদন্তের জল কতদূর গড়ায় এবং বিরোধী নেতাকে বাগে আনতে নতুন বিজেপি সরকার ও রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল আগামী দিনে আর কী বড় অ্যাকশন নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।