প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আরজিকর কাণ্ডের দীর্ঘ ৫৯৪ দিন পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমার বিচার পাওয়ার আন্দোলন। এতদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও আইনি জটিলতায় যে পরিবারটি নিজেদের আড়ালে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল, আজ তাঁরা সশরীরে জনসমক্ষে এলেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা স্পষ্ট করলেন, আদালত থেকে তাঁরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশের স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং এখন থেকে তাঁরা কোনো আড়াল ছাড়াই লড়াই করবেন।
নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁরা এখন তাঁদের আসল নাম ও পরিচয় প্রকাশের অনুমতি পেয়েছেন। আজ শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তাঁরা জানান, মৃতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) এবং বাবা দুজনেই তাঁদের মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াইকে রাজপথ থেকে ব্যালট বক্সে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এতদিন যাকে ‘অভয়া’ বলে চিনেছে বিশ্ব, আজ তাঁর মা রত্না দেবনাথ সরাসরি ক্যামেরার সামনে এসে নিজের নাম প্রকাশ করলেন। তিনি জানান, আড়াল সরিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ জানানোই এখন তাঁদের লক্ষ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পরিবারটিকে তাঁদের সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখন এই পরিবারটি আরও শক্তিশালী। আমরা তাঁদের পাশে আছি এবং মৃতা চিকিৎসকের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় তার জন্য বিজেপি সবরকম লড়াই চালাবে”।
রত্না দেবনাথের মতে, এই লড়াই কোনো পদের জন্য নয়, বরং বাংলার নারীদের সুরক্ষা এবং মেয়ের খুনিদের চরম শাস্তির দাবি সুনিশ্চিত করার জন্য।
পরিবারটির এই পদক্ষেপ এবং আইনি স্বীকৃতি বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতদিন তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে যে রাজনৈতিক তরজা চলছিল, রত্না দেবনাথের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই লড়াইকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৫৯৪ দিন আগে আরজি করের সেই অভিশপ্ত রাতের বিচারের দাবি আজ এক নতুন মোড় নিল। আড়াল সরিয়ে রত্না দেবনাথের এই আত্মপ্রকাশ আগামী দিনের ভোটযুদ্ধে কত বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।