প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনীতির আঙিনায় এক নজিরবিহীন যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বিগত কয়েক দশক ধরে যে বাংলাকে বড় বড় দেশীয় কর্পোরেট হাউসগুলি একপ্রকার এড়িয়ে চলত, সেই রাজ্যে এবার একসঙ্গে পা রাখছেন ভারতের দুই শীর্ষতম ধনকুবের—গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই সফরে আম্বানি পরিবারের সঙ্গে ‘অ্যান্টিলিয়া’-র মেগা বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বয়ং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির উপস্থিতিতে এক মহা-বিনিয়োগের সূচনা হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একই সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতের দুই প্রধান কর্পোরেট জায়ান্টকে বাংলার মাটিতে সক্রিয় করে তোলা নবান্নের নতুন বিজেপি সরকারের এক মস্ত বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ডাবল ধামাকা। এর মাধ্যমে রাজ্য থেকে তথাকথিত “কর্পোরেট অস্পৃশ্যতার” তকমা চিরতরে ধুয়ে ফেলতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।
২৪ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২-এ আদানি গ্রুপের উদ্যোগে একটি ২,০০০ শয্যার বিশ্বমানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের শিলান্যাস হতে চলেছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চমক ও রাজনৈতিক চাল হলো, এর ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে আদানি গ্রুপ যখন পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়তে চলেছে, ঠিক তখনই মুম্বইয়ের বৈঠকে মুকেশ আম্বানিকে দিয়ে রিলায়েন্সের (Reliance) ৫জি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, গ্রিন এনার্জি এবং ডেটা সেন্টারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মেগা বিনিয়োগের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করিয়েছেন শুভেন্দু। ভারতের অর্থনীতির দুই চালিকাশক্তিকে সমান্তরালভাবে বাংলার শিল্প মহোৎসবে শামিল করা নবান্নের এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক কূটনীতি।
বামপন্থী বা অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি জাতীয় স্তরে বরাবরই বিজেপিকে “আদানি-আম্বানির সরকার” বলে ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণ শানিয়ে এসেছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সেই আক্রমণকেই বাংলায় নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে রূপান্তর করে দিয়েছেন। আদানির হাসপাতালের অর্ধেক শয্যা দরিদ্রদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়ার যে মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দু দিয়েছেন, তাতে বিরোধীদের “কর্পোরেট তোষণ” বা “গরিব-বিরোধী” স্লোগান পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। নবান্ন এখন বুক ফুলিয়ে প্রচার করতে পারছে যে, কর্পোরেট পুঁজিকে কীভাবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নিখরচায় চিকিৎসার স্বার্থে ব্যবহার করতে হয়, তা এই নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারই করে দেখাল।
বিগত জমানার একের পর এক ঘটা করে হওয়া বাণিজ্য সম্মেলন (বিজনেস সামিট) এবং সেখানে প্রস্তাবিত কাগজের বিনিয়োগের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি বা ফাইল আটকে রাখার আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁস থাকবে না। ভারতের দুই শীর্ষ শিল্পপতির এই মেগা এন্ট্রি গোটা দেশের শিল্প মহলে এক জোরালো ইতিবাচক বার্তা (Positive Signal) পাঠাল। টাটাদের বিদায়ের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আদানি ও আম্বানিদের এই যৌথ পদার্পণ আগামী দিনে বাংলাকে পূর্ব ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু (Economic Hub) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।