প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে শিল্পের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল কীভাবে অপচয় ও অপব্যবহার করা হয়েছে, এবার তা নিয়ে বিধানসভার ফ্লোরে বিস্ফোরক তথ্য পেশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের জবাবে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সাবেক তৃণমূল সরকারের অন্যতম চর্চিত ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS)-এর ভেতরে চলা এক বিরাট আর্থিক অনিয়মের পর্দাফাঁস করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তথ্য দিয়ে দাবি করেন, এই সম্মেলনের নামে ফিকি (FICCI)-কে প্রায় ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি দায় বর্তায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় সরকারি নথি তুলে ধরে বলেন, সাবেক জমানায় রাজ্যে বিনিয়োগ টানার নামে ঘটা করে প্রতি বছর বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন বা ‘বিজিবিএস’ আয়োজন করা হতো। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের বড় বড় দাবি করা হলেও বাস্তবে রাজ্যে কোনো বড় শিল্প আসেনি। উল্টে এই সম্মেলনের আড়ালে সরকারি কোষাগারের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিজিবিএস-এর নামে ফিকি (FICCI)-কে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়ার পেছনে বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি লুকিয়ে রয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ টাকা পাইয়ে দেওয়ার ঘটনার পেছনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অহংকার, পরিবারতন্ত্র এবং এই ধরণের সীমাহীন দুর্নীতির জেরেই আজ পিসি-ভাইপোর কোম্পানি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং দলটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে যারা এভাবে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাই রেহাই পাবেন না।

বর্তমান বিজেপি সরকার রাজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাবেক আমলের এই সমস্ত রহস্যজনক খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। বাংলায় নতুন জমানায় চোর ও দুর্নীতিবাজদের যে কোনো স্থান নেই, তা গতকালের অধিবেশন থেকেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বাবুর কথায়, “বাংলার মানুষ এই তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলে বিজেপি-কে রাজ্যের সেবার দায়িত্ব দিয়েছে।”