প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেই নৃশংস ঘটনার সুবিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বর্তমান বিজেপি সরকার যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, তা গতকাল বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের জবাবে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে রাজ্যবাসীকে বড় আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বাবুর এই বক্তব্যের সময় বিধানসভার ভেতরে তৈরি হয় এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং মানবিক মুহূর্ত, যা উপস্থিত সকলকেই স্পর্শ করে।

মুখ্যমন্ত্রী যখন আরজি কর কাণ্ডের দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিচ্ছিলেন, তখন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন নির্যাতিতার মা—যিনি বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে মেয়ের সুবিচারের এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি শুনে তিনি নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এবং অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, সাবেক তৃণমূল জমানার মতো কোনো অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা নতুন সরকারে হবে না। আইনের শাসন এবং মা-বোনেদের নিরাপত্তাকে এই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক তৃণমূল সরকারের আমলের আইনহীনতা এবং তোষণের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া, অহংকার এবং সীমাহীন দুর্নীতির জেরেই আজ পিসি-ভাইপোর কোম্পানি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং দলটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে। বাংলার মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেই সাবেক শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলে বিজেপি-কে রাজ্যের সেবার দায়িত্ব দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, ধুলিয়ান, আসানসোল বা পার্ক সার্কাসের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কেউ যদি নতুন করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার বা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তবে কড়া হাতে তা দমন করা হবে।

একদিকে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। সাবেক তৃণমূলের বিধায়ক বা কাউন্সিলরদের অফিস থেকে বেআইনি সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের কাজ যাতে সাধারণ মানুষ না করে, বরং পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে আইন মেনে করে, সেই প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য এবং আরজি কর কাণ্ড নিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেই তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।