প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তপ্ত তিলোত্তমার রাজপথ। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে প্রতিনিয়ত। গত রাতে সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করল ভবানীপুরের আলিপুর এলাকায়। রাতের অন্ধকারে বিজেপির নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের অতর্কিত বাধা এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রশাসনের ‘অতিসক্রিয়তা’ ও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের দিকে।
ঘটনাটি ঘটে গত রাতে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত আলিপুরে। দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের প্রচারের সুবিধার্থে আলিপুরে বিজেপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই কাজের জন্যই প্রয়োজনীয় বাঁশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বোঝাই একটি ম্যাটাডোর নিয়ে আসা হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনো ট্রাফিক আইন ভঙ্গ না করা সত্ত্বেও এবং গাড়িটির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আলিপুরের মোড়ে পুলিশ গাড়িটিকে আটকে দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপরতলার নির্দেশ না মেলা পর্যন্ত এই সরঞ্জাম নিয়ে এগোনো যাবে না। রাতের অন্ধকারে বিনা কারণে এভাবে সরঞ্জাম আটকে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।
খবর পৌঁছানো মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। কেন এবং কোন আইনের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনী প্রচারের জন্য নিয়ে আসা সরঞ্জাম পুলিশ আটকে দিল, তা নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “রাজ্য পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।” পুলিশের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং পুলিশের অবস্থানে অনড় মনোভাব লক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে (CP) ফোন করেন। সূত্রের খবর, তিনি সিপির সঙ্গে দু’বার ফোনে কথা বলেন এবং প্রশাসনের এই ‘একতরফা’ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি (MCC) চলাকালীন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে হেনস্থা করার অধিকার বা এক্তিয়ার পুলিশের নেই। তিনি সাফ জানান, যদি অন্যায়ভাবে সরঞ্জাম আটকানো হয়, তবে তার উপযুক্ত আইনি মোকাবিলা করা হবে।
বিরোধী দলনেতার কড়া অবস্থান এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার প্রায় ২০-৩০ মিনিট পর পুলিশের মনোভাবে আমূল বদল লক্ষ্য করা যায়। উপরতলার নির্দেশে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক করা বাঁশ বোঝাই ম্যাটাডোরটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপরই উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উল্লাস দেখা দেয়। পুলিশের এই ‘পিছু হটা’কে বিজেপি শিবির তাদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে। সরঞ্জাম মুক্ত হওয়ার পর ফের ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু হয়।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “রাতের অন্ধকারে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। ভবানীপুরের মানুষ দেখছেন কীভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে তবে এর জবাব মানুষ ব্যালট বক্সে দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রে যেভাবে লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে এই ধরনের ঘটনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। তবে গত রাতের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে ভবানীপুরের প্রতি ইঞ্চি জমিতে লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে এবং বিরোধী শিবির এক চুলও জমি ছাড়তে রাজি নয়।