প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, বদলে গেছে জমানাও। কিন্তু ভাঙড়ের মাটির তলা থেকে বারুদের গন্ধ কি আদেও কমেছে? ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে দক্ষিণ বামুনিয়ায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল এলাকা, যাতে ছিটকে গিয়েছিল এক একজনের প্রাণ— সেই বারুদ-সাম্রাজ্যের নেপথ্যে আসল চক্রান্ত কাদের? এই প্রশ্নটাই এবার তাড়া করে বেড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। আর সেই তদন্তেরই জল গড়াল এবার ক্যানিং পূর্বের দাপুটে প্রাক্তন বিধায়ক সওকত মোল্লার দোরগোড়ায়।বৃহস্পতিবার ভোর হতে না হতেই জীবনতলা থেকে মৌখালি— কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের আওয়াজে কেঁপে উঠল সওকত-দুর্গ। একটা নয়, দুটো নয়, একযোগে মোট ৯ টি ঠিকানায় চিরুনি তল্লাশি চালাল এনআইএ (NIA)-র বিশেষ দল। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে রাত— টানা সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন অ্যাকশন! কিন্তু যার খোঁজে এই এলাহী আয়োজন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির উপস্থিতির সময় সেই হেভিওয়েট নেতাই ছিলেন অনুপস্থিত! ফোন বন্ধ, বাড়ি খালি। তদন্তকারীরা যখন সওকত মোল্লার হদিশ না পেয়ে তাঁর খোঁজ চালাচ্ছেন, তখন রাজনৈতিক মহলে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের ফল উল্টে যেতেই কি অস্বস্তিতে নেতারা? নাকি কেন্দ্রীয় এজেন্সির জেরার মুখোমুখি হওয়া এড়াতেই এই সাময়িক দূরত্ব?
বাড়িতে সওকত বাবুকে না পেয়ে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে সাথে নিয়েই বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে বের হন এনআইএ আধিকারিকেরা। ইমরানের রুফটপ ক্যাফে, দলীয় কার্যালয়, এমনকী বিলাসবহুল রিসোর্টেও চলল ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি। এর মাঝেই তদন্তকারীদের জালে এসেছেন সওকতের এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ল্যাপটপ, সিসিটিভি-র হার্ড ডিস্ক থেকে শুরু করে গুচ্ছ গুচ্ছ নথি। কিন্তু আসল উত্তর মিলবে কার কাছে? ভাঙড়ের এই বিস্ফোরণ কি স্রেফ একটা দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো গভীর ‘টেরর অ্যাঙ্গেল’? সেই রহস্যের জট খুলতেই এবার সওকত মোল্লার পরিবারের হাতে আগামী ৮ জুন নিউটাউনের এনআইএ দপ্তরে হাজিরার অফিশিয়াল সমন ধরিয়ে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। নোটিসে স্পষ্ট বার্তা— তদন্তের স্বার্থে আসতে হবে, দিতে হবে জবাব।
সবচেয়ে মোক্ষম বিষয়, সম্প্রতি এই নেতার সরকারি নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার পরেই কিন্তু এনআইএ-র এই সাঁড়াশি চাপ। কাকতালীয়? নাকি ডাল মে কুছ কালা হ্যায়? এখন লাখ টাকার প্রশ্ন একটাই— আগামী ৮ জুন কি সত্যিই নিউটাউনের এনআইএ দপ্তরে হাজিরা দেবেন সওকত মোল্লা? নাকি আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়বেন? নজর থাকবে নিউটাউনের দিকে।