প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২১ জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন ধাক্কা খেল মমতার কালীঘাট শিবির। তিন দশকের চেনা ঐতিহ্য চূর্ণ করে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মমতার তৃণমূল গোষ্ঠীকে সমাবেশ করার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, জনস্বার্থ ও যান চলাচল ব্যাহত করে এসপ্ল্যানেডে কোনো মহাসমাবেশ করা যাবে না। পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের (তারামণ্ডল) সামনের রাস্তায় একগুচ্ছ কঠোর শর্ত মেনে এই কর্মসূচি করতে হবে।
প্রতি বছর ২১ জুলাই মানেই ধর্মতলায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েত আর তৃণমূল সুপ্রিমোর মেগা ভাষণ। কিন্তু এবার কলকাতা পুলিশের জারি করা ১৬৩ ধারার (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) কড়াকড়িতে সেই চেনা ছবি পুরোপুরি বদলে গেল। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ বা চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের মতো ব্যস্ততম লাইফলাইন স্তব্ধ করে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে জনসভা করতে দেওয়া হবে না। দল আড়াআড়ি বিভক্ত হওয়ার পর এই প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে তাদের ঐতিহাসিক সভাস্থল ছাড়তে বাধ্য হতে হলো।
আদালত সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনের এই সভায় সর্বোচ্চ ৩,০০০-এর বেশি সমর্থক জড়ো করা যাবে না। লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যকে এক ধাক্কায় ৩ হাজারে নামিয়ে এনেছে এই রায়। তারামণ্ডলের সামনের একটি নির্দিষ্ট লেনের অংশই শুধু ব্যবহার করতে পারবে দল। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে মূল রাস্তার বাকি অংশ সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে। কলকাতা পুলিশকে ওই চত্বরে যান চলাচল সচল রাখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ট্রাফিক সামলানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের (২০prev/২০২৫) কর্মসূচিতে ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে যে অবমাননার মামলা চলছে, সেই প্রেক্ষিতে আগামী অগস্ট মাসের মধ্যে তাঁদের হলফনামা পেশের নির্দেশও বহাল থাকছে। তৃণমূলের ভাঙনের পর এবারের শহীদ দিবস এক বেনজির রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী হতে চলেছে। একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী মূল তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশের আইনি অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেসও ওই একই দিনে শহীদ মিনারে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের ডাক দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট গোষ্ঠীকে এবার মাত্র ৩ হাজার কর্মী নিয়ে পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে তারামণ্ডলের বুকেই সান্ত্বনা খুঁজতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশে জুলাইয়ের ট্র্যাডিশনে আদালতের এই রায় অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন এক মোড় এনে দিল।