প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তেরো বছর আগের সেই অভিশপ্ত ক্ষত ফের দগদগে হয়ে উঠল রাজ্যের বুকেই। সিআইডি তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ায় চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ সশরীরে আছড়ে পড়ল কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার সল্টলেকের রাজপথে দাঁড়িয়ে বিচারের দাবিতে ফের গর্জে উঠলেন আন্দোলনের দুই প্রধান মুখ— মৌসুমী কয়াল এবং টুম্পা কয়াল। ঘটনার ভয়াবহতা এবং পরিবারের অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে নড়েচড়ে বসেছে নবান্নও।

রাজনীতির নোংরা খেলায় ১৬ বার সরকারি আইনজীবী (পিপি) বদল করে মামলা দুর্বল করার নজিরবিহীন অভিযোগ। তেরো বছর ধরে চলা তদন্ত প্রক্রিয়ায় একের পর এক গলদ এবং গাফিলতির দাবি। সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার মিলবে সম্পূর্ণ আইনি ব্যাক-আপ। জনতার দরবারে হাজির হয়ে নির্যাতিতার পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে জানান, বিগত সরকারের আমলে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার আইনজীবী পরিবর্তন করা হয়েছিল। যার ফলেই মামলাটি আইনি দিক থেকে খেই হারিয়ে ফেলে।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা স্পষ্ট দাবি জানান, ২০১৩ সালের ৭ জুনের সেই নৃশংস ঘটনার ফাইল এবার নতুন করে খোলা হোক এবং আসল অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করা হোক।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলনকারীদের এই আরজি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন। তিনি সাফ জানান, কামদুনি মামলার যথাযথ তদারকি বা মনিটরিংয়ের অভাব ছিল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে চলমান লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার পরিবারকে সম্পূর্ণ সরকারি আইনি সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায়।