প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ যখন চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন মহাবিস্ফোরণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ক্ষমতাশালী ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ শিবিরের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন শ্রীরামপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের অন্দরে বসেই অভিষেকের তৈরি সমান্তরাল সাম্রাজ্যকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। কল্যাণের গলায় ঝরে পড়া চরম হতাশা এবং ক্ষোভের সুর এখন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে—তৃণমূলের ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব এবার আর কোনো পর্দার আড়ালে নেই, তা এখন প্রকাশ্য গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

দলীয় সংগঠনের বর্তমান কঙ্কালসার দশা এবং একের পর এক ভাঙনের জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ অফিস এবং কর্পোরেট রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ গলায় বর্ষীয়ান এই সাংসদ দাবি করেন, তৃণমূলকে যদি কেউ ধ্বংসের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়ে থাকে, তবে তা হলো এই ক্যামাক স্ট্রিটের বাস্তুতন্ত্র। সংগঠনের চাবিকাঠি নিচুতলার কর্মীদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে যেভাবে আইপ্যাক (I-PAC) এবং কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত দিতে হচ্ছে আজ।

অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক সব অভিযোগ এনেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, সুমিত রায়ের কথামতো যাঁরা দল চালাতেন, আজ তাঁরাই সবচেয়ে বড় বিপদে। নিচুতলার হাজার হাজার কর্মী এবং সংগঠকদের এখন পুলিশ দিয়ে ডেকে ডেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে জেলে ঢোকানোর ব্ল্যাকমেইল চলছে। এই চরম আতঙ্কের আবহে দলের বুথ স্তরের কর্মীরা সম্পূর্ণ দিশেহারা।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিক্ষুব্ধ বা বিদ্রোহী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, আজ যাঁরা হঠাৎ করে সাধু সাজছেন বা বিদ্রোহ করছেন, তাঁরাই একসময় অভিষেকের সবচেয়ে প্রিয় পাত্র ছিলেন। তাঁরাই নিজেদের ‘ক্যামাক স্ট্রিটের লোক’ বলে দলের পুরনো ও অনুগত নেতাদের ওপর দাদাগিরি চালাতেন। অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে সুমিত রায়—সকলের দুর্নীতির পেছনে যে অভিষেকের পরোক্ষ ‘মাথায় হাত’ ছিল, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

ক্যামাক স্ট্রিটের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্যে বিন্দুমাত্র আঁচ পড়তে দেননি কল্যাণ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দল যত বড় সংকটের মধ্য দিয়েই যাক না কেন, তিনি আমৃত্যু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবেন।

২০২৬-এর নির্বাচনী ধাক্কার পর কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে যে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, কল্যাণের এই চরম আক্রমণের জবাবে ক্যামাক স্ট্রিট তথা অভিষেক শিবির পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়।