প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শুভেন্দু অধিকারীর পিএ চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় এবার চূড়ান্ত এবং বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। শুক্রবার বারাসত আদালতে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। দীর্ঘ তদন্তের পর জমা দেওয়া এই মেগা চার্জশিটে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রকাশ পাওয়া মাত্রই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। চার্জশিটে ৬ জন পেশাদার শার্প শ্যুটার এবং ২ জন বিজেপি কর্মীর নাম রয়েছে।
সিবিআই-এর চার্জশিটে যে তথ্য সামনে এসেছে তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে আকস্মিকভাবে নয়, বরং ভোটের অনেক আগে থেকেই রাস্তা থেকে সরানোর নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার চক্রান্ত করা হয়েছিল। আরও বড় বিষয় হলো, এই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সিবিআই যাদের নাম জমা দিয়েছে, তারা হলো— সাগর সোনকার ও সাহেব সোনকার। সিবিআই-এর দাবি, সাহেব এবং সাগর আদতে নিহত চন্দ্রনাথেরই অন্যতম সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ ছিল। অর্থাৎ, ঘরের লোকেরাই এই নৃশংস খুনের নীল নকশা তৈরি করেছিল।
হত্যাকাণ্ডটি সুপারি দিয়ে ঘটাতে ভিন রাজ্য থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পেশাদার খুনিদের নিয়ে আসা হয়েছিল। সিবিআই চার্জশিটে সরাসরি যে ৬ জন শার্প শ্যুটারের নাম উল্লেখ করেছে, তারা হলো: ১. মনু সিংহ ২. রাজ সিংহ ৩. গুলু সিংহ ৪. ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র ৫. ভিকি মৌর্য ৬. নবীন কুমার সিংহ।
শার্প শ্যুটারদের সাথে যোগাযোগ, টাকা ও অস্ত্র লেনদেনের জন্য মূলত দালাল বা ‘মিডিলম্যান’ হিসেবে কাজ করেছিল ৩ জন। সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী এই ৩ মিডিলম্যান হলো— বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র। তবে সিবিআই আদালতের কাছে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অপারেশন সফল হলেও এই মেগা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা একাধিক ব্যক্তি এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।