প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তিলোত্তমার নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার পাপ কি এবার তৃণমূলের দরজায় এসে ধাক্কা মারল? রাজ্যে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অপরাধীদের বাঁচানোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই-এর নতুন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) মামলাটির ফাইল নতুন করে খুলতেই আজ, বৃহস্পতিবার নিউটাউনের সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন পানিহাটির প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। সর্ষের মধ্যেই যে ভূত লুকিয়ে ছিল, তা প্রমাণ করতে আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি এই ঘাসফুল নেতা।
তিলোত্তমার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযোগ উঠছিল, সত্যকে ধামাচাপা দিতে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের শীর্ষ স্তরের অঙ্গুলিহেলনে তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল। আর সেই কুখ্যাত ‘অপারেশন’-এর প্রথম সারিতে নাম জড়িয়েছিল পানিহাটির এই নেতার। গতকালই পানিহাটি শ্মশানে হানা দিয়ে সৎকারের নথিপত্র ও মূল খাতা বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্মল ঘোষের এই হাজিরা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শ্মশানের নথিতে এমন কিছু সূত্র মিলেছে যা গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে পারেনি।
অসহায় বাবা-মা বারবার দাবি করেছিলেন, মেয়ের নৃশংস পরিণতির পর তাঁরা দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত চেয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় পুলিশ প্রশাসন ও তৃণমূলের স্থানীয় কিছু নেতার প্রবল চাপে, গ্রিন করিডোর বানিয়ে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করতে বাধ্য করা হয়। এই নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেই শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। প্রশ্ন উঠছে, কার পাপ ঢাকতে এবং কার নির্দেশে একজন নেতা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে একটি খুন হওয়া মেয়ের দেহ সৎকারের তদারকি করছিলেন?
প্রথম দিন থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করে আসছে, আর জি করের ঘটনা কেবল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ নয়, এর পেছনে ছিল গভীর প্রাতিষ্ঠানিক চক্রান্ত ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় কোনো অপরাধীই আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পাবে না। নির্মল ঘোষের মত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার আসল চাঁইদের মুখোশ খোলার পালা। রাজধর্ম ভুলে যারা অপরাধীদের আড়াল করতে কোমর বেঁধে নেমেছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তিলোত্তমার বিচার এবং বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষার স্বার্থে এই লড়াই শেষ দেখে ছাড়বে বিজেপি।