প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিধানসভায় বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বৈঠক সেরে বেরোনোর সময় এক বিস্ফোরক ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ঋতব্রতর ঘর থেকে বেরোতেই যখন সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও নতুন শিবিরে যোগদানের জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন চন্দ্রিমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, “কালের যাত্রায় সবাইকেই পা মেলাতে হয়।” তাঁর মুখের এই একটিমাত্র লাইনই এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও দলবদলের বা কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়ার তত্ত্ব সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, বিধানসভায় তাঁর কিছু জরুরি কাজ ছিল এবং কিছু অফিশিয়াল নথিপত্র ও কাগজ জমা দিতেই তিনি আজ সেখানে এসেছিলেন। কোনো বিশেষ শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেও, তাঁর শরীরী ভাষা এবং বিরোধী দলনেতার ঘরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ঘটনা অন্য কথাই বলছে।
তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার তীব্র টানাপোড়েন এবং মমতা শিবিরের সঙ্গে দূরত্বের জেরে আজ তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদসহ সমস্ত দায়িত্ব ছেড়েছিলেন চন্দ্রিমা। তারপরই আজ বিধানসভায় এসে সরাসরি বিরোধী শিবিরের ঘরে গিয়ে বসা, এবং সেখান থেকে বেরোনোর সময় চন্দ্রিমার দেওয়া এই ডায়ালগ—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এখন এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।