প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের কোন্দল এবার চরমে। দলের নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল শিবিরকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে চরম কটাক্ষ করলেন তিনি।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল কোনওদিনই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না। তৃণমূল হয়ে গিয়েছিল লুটেরাদের দল।” তৃণমূলের সামগ্রিক রাজনৈতিক আদর্শকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “নীতি ছিল দুর্নীতি। তৃণমূলের ভিত্তিই ছিল কাটমানি।” তাঁর মতে, দলটির অভ্যন্তরে যে কোন্দল চলছে, তা আদর্শের লড়াই নয়, বরং লুটের বখরা নিয়ে দ্বন্দ্ব।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য একপ্রকার নজিরবিহীন। তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের এখন একমাত্র জায়গা হচ্ছে মর্ডান ইসলামিক হিস্ট্রির সিলেবাসে (আধুনিক ইসলামিক ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে)। এর বাইরে আর তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।” বিজেপির দাবি, তোষণ এবং দুর্নীতির রাজনীতির অবসান হতে চলেছে এবং তৃণমূলের নাম ভবিষ্যতে কেবল ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে ধস নামতে শুরু করেছে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের সঙ্গে ক্রমাগত বিরোধের মাঝেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই আবহেই শমীক ভট্টাচার্যের এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল। বিজেপির এই চরম কটাক্ষের জবাবে তৃণমূলের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত পালটা কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া মেলেনি।