প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পূর্ব বর্ধমান জেলার সার্বিক পরিকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একগুচ্ছ বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মেমারিতে আয়োজিত বিশাল প্রশাসনিক জনসভা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে বিগত সরকারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি এলাকার শিল্প ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে পূর্ব বর্ধমান জেলা আগামী দিনে রাজ্যের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে চলেছে।
এদিন মেমারির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী একযোগে ৩টি নতুন পাওয়ার সাব-স্টেশনের উদ্বোধন করেন। এই সাব-স্টেশনগুলি চালু হওয়ার ফলে সমগ্র মেমারি ও তার সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সমস্যা চিরতরে দূর হবে, যা স্থানীয় কুটির শিল্প এবং কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ করতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, মেমারিতে ১১.৮৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা জোড়া হচ্ছে। এই দীর্ঘ নতুন রাস্তা তৈরির ফলে জাতীয় সড়কের সাথে গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ হয়ে উঠবে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের আবশ্যিক সমস্যা নিয়ে বিগত জমানার কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে মন্তব্য করেন, “এরাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছে মানুষ।” বিগত সরকারের ভুল নীতি এবং শিল্প-বিমুখতার কারণেই বাংলার যুবসমাজকে ঘর ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল বলে তিনি তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার মেমারির মতো বিভিন্ন মহকুমায় পরিকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার যে জোয়ার আনছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা, যাতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যেই সসম্মানে ফিরিয়ে এনে কাজের সুযোগ দেওয়া যায়।