প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনাকে লক্ষ্য করে সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে আর রেয়াত করা হবে না। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) নবান্নে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া এবং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সরকারি প্রকল্প নিয়ে যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক ও ভুয়ো রিল (Reels) বা পোস্ট শেয়ার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটির কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য আবেদনপত্রগুলি খুঁটিয়ে ভেরিফিকেশন বা যাচাই করার কাজ চলছে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে কিছু মানুষ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সাধারণ মহিলাদের ভুল বোঝাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করার কোনও কারণ নেই। আমরা অত্যন্ত কড়া নজর রাখছি। যাঁরা সমাজমাধ্যমে এই প্রকল্প নিয়ে ভুয়ো পোস্ট করছেন বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিল বানাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিভ্রান্তিকর রিল তৈরির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দিষ্টভাবে দুই যুবকের নাম উল্লেখ করে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “আমি দেখছি যাঁরা রিল পোস্ট করছেন, তাঁরা কেউই বিজেপিকে ভোট দেননি। আমি দুটো নাম সরাসরি বলে দিচ্ছি— নূর আলম এবং মেহবুব। আপনারা বিজেপিকে ভোট দেননি এবং জানি কোনওদিন দেবেনও না। মেহবুব, আপনি মেয়েদের দিয়ে ভিডিও করিয়ে রিল পোস্ট করছেন! মনে রাখবেন, আপনাদের ভোটের জন্য আমরা রাজনীতি করি না।”

বিরোধীদের কটাক্ষ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী উপভোক্তা মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে জানান, আগামী ১৭ অগস্ট থেকেই প্রথম দফার যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। তিনি জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ২ কোটি ২৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। বিগত তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে হওয়া আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে এবং অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রতিটি প্রকৃত প্রাপকের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। সবশেষে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি দাবি করেন, “এসব কুৎসা করে কিচ্ছু হবে না, এই রাজ্যে বিজেপি আগামী ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে।”