প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ইএম বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনের যে বাড়িকে গত ২০২২ সাল থেকে ‘তৃণমূল ভবন’ বা দলের অস্থায়ী সদর দপ্তর বানিয়ে রাখা হয়েছিল, আইনি নোটিশের জেরে মাঝরাতে তা খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। রাজ্যে ঐতিহাসিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের এই সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার তীব্র ও ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি— “চোরেদের নিয়ে দল করলে যা হয়, এটা আসলে কোটি কোটি মানুষের কান্নায় ঝরে পড়া অভিশাপেরই চরম পরিণতি।”
তপসিয়া কার্যালয়ের সংস্কার কাজের জন্য ২০২২ সাল থেকে মেট্রোপলিটনের এই ভাড়া বাড়িতে তৃণমূলের মূল কাজকর্ম চলছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ, বাড়ির মালিকের ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে একপ্রকার জোর করেই আটকে রাখা হয়েছিল এই সম্পত্তি। শেষমেশ বাড়ির মালিকের আইনি নোটিশের খাঁড়া ঘাড়ের ওপর আসতেই তড়িঘড়ি মাঝরাতে অফিসের ফাইলপত্র, আসবাবপত্র ট্রাকে তুলে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মীরা। নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিজেদের প্রধান কার্যালয় এভাবে ফেলে যাওয়ার ঘটনাকে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের চরম সংকট হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতেই চেনা মেজাজে তৃণমূলকে তুলোধোনা করেছেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ সাফ বলেন, “মানুষের অভিশাপের পরিণাম এটা। বাংলায় যে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, নিয়োগ দুর্নীতি আর সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল, তারই পাপের ঘড়া আজ পূর্ণ। আজ সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভ আর অভিশাপেই ওদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও চলে গেল।” তৃণমূলের বর্তমান অবস্থাকে ‘ডুবন্ত জাহাজ’ বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ধরাশায়ী হওয়ার পর দলটা এখন পুরোপুরি শেষ। হারের ধাক্কায় ও আতঙ্কে নেতারা সব দল ছাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে এই পার্টি অফিসগুলোতেও। নিজের দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা এবং ভাঙনকে আড়াল করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা রাজনৈতিক মন্তব্যকে চরম কটাক্ষ করে দিলীপ বাবু বলেন, “নিজের পার্টি অফিস চলে গেল, নিজের দলটাই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, অথচ উনি এখনো ভাবের ঘোরে আছেন যে উনি মস্ত বড় নেতা!” তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙন নিয়ে তাঁর দাবি, এতদিন পুলিশ আর গুন্ডা দিয়ে জোর করে দল চালানো হচ্ছিল। এখন মানুষের সমর্থনে এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই জোর খতম হয়েছে।
যদিও তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও নিয়মতান্ত্রিক। বাড়ি খালি করার নোটিশ আসার পর আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অফিস পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার অহংকার যে চিরস্থায়ী নয় এবং বাংলায় যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেছে, মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া তারই এক জ্বলন্ত প্রতীক।