প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজভবনের ঐতিহাসিক চত্বর সাক্ষী থাকল এক যুগান্তকারী মুহূর্তের। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আকাশে দীর্ঘকাল পর উদিত হলো এক নতুন সূর্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে ১ জুন শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার আরও ৩৫ জন নতুন সদস্য। তবে এই মন্ত্রিসভা কেবল সংখ্যার বিচারে বড় নয়, বরং এর ভৌগোলিক ও সামাজিক ভারসাম্য একপ্রকার নজিরবিহীন। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও আদিবাসী সমাজ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের লড়াকু সাংগঠনিক মুখ, অন্ত্যোদয় পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে দিল্লির দরবারে বাংলার মেধার প্রতিনিধিত্ব করা বুদ্ধিজীবী—শুভেন্দুর এই নতুন ‘টিম ৪১’-এ ঠাঁই পেয়েছেন প্রত্যেকেই।
বিগত সরকারগুলোর আমলে উত্তরবঙ্গ যেভাবে বারবার বঞ্চিত হয়েছে, বিজেপি সরকার প্রথম দিন থেকেই সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দীপক বর্মন ও মনোজ কুমার ওরাওঁ-এর অন্তর্ভুক্তি এবং মালতী রাভা রায়ের মতো নেত্রীকে স্বাধীন দায়িত্ব দেওয়া তারই প্রমাণ। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ স্তরে সংগঠনকে মজবুত করতে অর্জুন সিংহ, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং গৌরীশঙ্কর ঘোষদের মতো পোড়খাওয়া ও অভিজ্ঞ জননেতাদের কাঁধে দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেটের গুরুভার। রাঢ় বাংলার মাটির মানুষ দুধকুমার মণ্ডলের অন্তর্ভুক্তি দলের আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের প্রতি এক বিরাট সম্মান। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শনকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সমাজের একেবারে শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের প্রতিনিধি জয়েন মুর্মু, দিবাকর ঘরামী, রাজেশ মাহাতো ও উমেশ রাইদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার একই সাথে স্বপন দাশগুপ্তের মতো প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও থিঙ্ক-ট্যাঙ্ককে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করেছে যে, মেধা এবং লড়াইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হবে আগামী দিনের নতুন বাংলা। তরুণ ও যুব সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে নিয়ে আসা হয়েছে ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ-র মতো ফ্রেশ ফেসকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্ত্রিসভা গঠনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানে যেমন রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, তেমনই রয়েছে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের ঝাঁজ। সব মিলিয়ে ৪১ জনের এই শক্তিশালী দল এবার বাংলায় মোদীজির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রকে বাস্তবায়িত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে। বাংলার মানুষ যে পরিবর্তনের আশা নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, এই বৈচিত্র্যময় ও ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা সেই আশা পূরণের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ধাপ।