প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর এবার মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে স্মরণ করে বেলডাঙার প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরাসরি রাজ্যের নতুন প্রশাসন ও পুলিশকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিতর্কিত এই বিধায়ক।
রবিবার বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণের আয়-ব্যয়ের হিসেবনিকেশ সংক্রান্ত এক সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দেন হুমায়ুন কবীর।
প্রশাসনকে সরাসরি নিশানা করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে দেখাক। আগামী ৬ ডিসেম্বর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-12), রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার রাস্তা পুরোপুরি আমার সমর্থকদের কব্জায় থাকবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ওই দিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হতে পারে। কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া, কান্দি এবং বর্ধমান থেকেও তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুগামী ও সমর্থকেরা ওই দিন মুর্শিদাবাদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাস্তা স্তব্ধ করবেন বলে দাবি জানান তিনি। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই কর্মসূচিতে কোনো শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করা হবে না।
হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানান, বেলডাঙায় প্রস্তাবিত এই বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হবে। প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই মেগা মসজিদে একসঙ্গে ৮০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বেই এই মসজিদের মহাসমারোহে উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে ৮ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকারও বেশি অনুদান মিলেছে এবং তার একটি বড় অংশ খরচ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
হুমায়ুন কবীরের এই উসকানিমূলক ও রাস্তা দখলের হুঁশিয়ারির তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে শাসকদল বিজেপি। রেজিনগরের বিজেপি বিধায়ক শাখারভ সরকার কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে বলেন, “হুমায়ুন কবীর বোধহয় ভুলে গিয়েছেন যে রাজ্যে সরকার বদলে গিয়েছে এবং আগের মুখ্যমন্ত্রী এখন প্রাক্তন। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। যদি তিনি ধর্মীয় তাস খেলে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেন, তবে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিনের মতোই এবারও তাঁকে নিজের বাড়িতেই বন্দি করে রাখা হবে।” রাজ্যে নতুন সরকারের শাসনকালে ৬ ডিসেম্বরের এই সংবেদনশীল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ব্যাপক নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়েছে।