প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, বিজয়গড় ও বাঘাযতীন এলাকায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটল। একদল দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্তমান মেয়র পারিষদ দেবব্রত (মলয়) মজুমদারের বিজয়গড়ের বাড়িতে। এর পাশাপাশি এলাকার আনন্দপল্লি, বিজয়গড় ও বাঘাযতীন ডি ব্লকসহ মোট চারটি তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর করে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমান্তরালভাবে বাঘাযতীনের আনন্দপল্লি এলাকায় সিপিএমের একটি শহিদ বেদি ভাঙচুর করার মারাত্মক অভিযোগও সামনে এসেছে।এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে যাদবপুর এলাকা। দলীয় কার্যালয় ও প্রাক্তন বিধায়কের ওপর হামলার প্রতিবাদে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামী, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষ ও আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীদের নেতৃত্বে বিজয়গড় থেকে গাঙ্গুলিবাগান পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।
অভিযোগ, শনিবার ভরসন্ধ্যা থেকেই বিজয়গড় ও বাঘাযতীন এলাকায় কমপক্ষে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল তাণ্ডব চালাচ্ছিল। গভীর রাতে তারা প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বিজয়গড়ের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি পাথর ছুঁড়ে জানলা-দরজার কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় চরম আতঙ্কিত প্রাক্তন বিধায়কের পরিবার। দেবব্রত মজুমদার বলেন, “কমপক্ষে ১০০ লোক এসে আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে, আমার দাদাকে ধাক্কা মেরেছে। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যাদবপুরের মাটিতে এমন বর্বরতা দেখিনি।” প্রাক্তন বিধায়কের পাশাপাশি ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুঠতরাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর রাতেই যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক।
তাণ্ডব এখানেই থামেনি, দুষ্কৃতীরা বাঘাযতীনের কুসুম কানন এবং আনন্দপল্লি এলাকার একাধিক তৃণমূল কার্যালয় তছনছ করে সেখানে দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলে দেয়। অন্যদিকে, আনন্দপল্লি এলাকায় বামেদের ওপরও আঘাত নেমে আসে। অভিযোগ, সেখানে থাকা সিপিএমের একটি পুরোনো শহিদ বেদি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সিপিএম কর্মীদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বামেদের লাল পতাকা ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দিয়েছে। এই হামলার ঘটনায় তৃণমূল ও সিপিএম—উভয় পক্ষই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে এবং দাবি করেছে, ঘটনার সময় একটানা এক ঘণ্টা ধরে পুলিশকে ফোন করা সত্ত্বেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।
এই হামলার পেছনে সরাসরি বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি সরকারকে ধিক্কার জানানো হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হিংসার সাথে তাদের কোনও কর্মী যুক্ত নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের নিজস্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। আপাতত এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।