প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক চরম ও নৃশংস ঘটনা সামনে এলো। একদল দুষ্কৃতীর হাতে নৃশংসভাবে মারধরের শিকার হয়ে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা বিজনবন্ধু বাগ। আজ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) সকাল ৯টা নাগাদ বাইপাসের ধারের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুর ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রামনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও কালীঘাটপন্থী নেতা অখিল গিরির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় পটাশপুরের সাউথখণ্ড এলাকায় বিজনবন্ধু বাগের বাড়িতে হানা দেয় ৬ থেকে ৭ জনের একটি মোটরবাইক বাহিনী। তারা প্রাক্তন প্রধানকে তাঁর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।অভিযোগ, এরপর স্থানীয় একটি কাঠ মিলে আটকে রেখে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বিজনবাবুকে নৃশংসভাবে পেটানো হয়। মারধরের জেরে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা তাঁকে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল এবং অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় দ্রুত কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ রবিবার সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি বিজেপির চক্রান্ত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দিকে আঙুল তুলেছেন অখিল গিরি সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এলাকায় তৃণমূলের সংগঠনকে মজবুত রাখা এবং বিজেপির রক্তচক্ষুর সামনে মাথা নত না করার কারণেই এই পরিকল্পিত খুন। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় জেলা নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই; মূলত টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরেই এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নেতৃত্বের তরফ থেকে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি, যথাসময়ে পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। আপাতত পটাশপুরের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।