প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অপরাধ করে যে পার পাওয়া যায় না, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার পুরোপুরি অস্তিত্ব সংকটে ডুবতে চলেছে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেস। কোটি কোটি টাকার রেশন কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চার্জশিটে নাম থাকা অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু অবশেষে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর এই ইস্তফা আসলে ডুবন্ত জাহাজ থেকে নিজেকে বাঁচাবার মরিয়া চেষ্টা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নিজের চিঠিতে সুগার ৩৫০ পার হওয়া কিংবা কিডনির বিকলতার মতো একাধিক শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন বালু বাবু। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, এগুলো আসলে তদন্তের চাপ থেকে বাঁচার কৌশল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED) দ্বারা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাময়িক জামিন পেলেও, রাজ্যে রাষ্ট্রীয়তাবাদী ও জিরো-টলারেন্স নীতি নেওয়া নতুন সরকার আসার পর ফের দুর্নীতির ফাইল খোলার আতঙ্কেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বুথ স্তরে ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজের ‘দুর্গ’ বানিয়েছিলেন, সেখানে আজ ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক জমি কার্যত শূন্য। দলের অন্দরে পিসি আর ভাইপোর কর্তৃত্বের লড়াই এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, পুরনো কোনো নেতাই আর নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই দলে যে ভাঙন ধরেছিল, বালুর এই ইস্তফা তাতে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল।

রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হতেই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। নতুন সরকারের কড়া হুঁশিয়ারির পর একের পর এক দুর্নীতির সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে যাচ্ছে। রেশন দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতাদের স্থান এখন আর ক্ষমতার অলিন্দে নয়। জ্যোতিপ্রিয়া মল্লিকের এই ইস্তফা স্পষ্ট করে দিল—তৃণমূলের তাসের ঘর এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে।