প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। অধিবেশন শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কক্ষে তাঁর সঙ্গে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ৫ মমতাপন্থী বিধায়ক। বিধানসভার অলিন্দে এই বৈঠক ঘিরে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।

কুণাল ঘোষের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মূলত তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়: ১) পুরনো রক্ষী ফেরত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নিরাপত্তা রক্ষীদের (PSO) পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২) হামলা বন্ধের দাবি: রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চলা হিংসা ও হামলা অবিলম্বে থামানোর দাবি করা হয়েছে।
৩) হকার উচ্ছেদ রোধ: রাজ্য জুড়ে চলা হকার উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিধায়করা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের কালীঘাট-পন্থী বিধায়করা জানান, বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের চা-বিস্কুট খাইয়ে আপ্যায়ন করেছেন এবং সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা দল ও মানুষের স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। বিধানসভায় আমরা একটি গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব।” বিধানসভায় তাঁদের বসার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী এবং এর প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।