প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার অলিন্দে তাঁর অবাধ যাতায়াত, খোদ তিলোত্তমার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে, সেই প্রভাবশালী শীর্ষ পুলিশকর্তাকেই এবার রাতভর নাটকের পর নিজেদের হেফাজতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ সাড়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিজ্ঞাসাবাদের পর, তদন্তে তীব্র অসহযোগিতার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের (DCP) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আইন প্রয়োগকারী এক শীর্ষ আধিকারিকের এভাবে ইডির হাতে গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই গ্রেফতারি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক গভীর তদন্ত প্রক্রিয়া। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকার কুখ্যাত অপরাধী ও জমি মাফিয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ এবং বেহালার ধৃত প্রোমোটার জয় কামদারের কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি এবং বেআইনি সম্পত্তি লেনদেনের মামলায় জড়িয়েছিল এই ডিসি-র নাম। অভিযোগ, জাল নথির সাহায্যে কলকাতার একাধিক বিতর্কিত জমি ও সম্পত্তি দখল করে, সেখানে বেআইনি নির্মাণচক্র চালানো হতো এবং সেই অপরাধলব্ধ অর্থ বা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পাচার করা হতো। এই পুরো চক্রটির সুরক্ষাকবচ হিসেবে এই পুলিশকর্তা কাজ করছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। জমি মাফিয়া চক্রের পাশাপাশি, কয়লা পাচার মামলাতেও (Coal Scam) এর আগে এই আধিকারিককে দিল্লির দপ্তরে তলব করা হয়েছিল।

ইডি সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকার কারণে এবং প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) এর ধারা লঙ্ঘনের অপরাধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি (OC) এবং প্রশাসনের অন্দরে একদা অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই পুলিশকর্তার পতন, রাজ্যের অপরাধী-পুলিশ-প্রোমোটার চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।