প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এবার আরও চওড়া। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া থেকে বেরিয়ে সোজা বিধানসভায় পৌঁছে গেলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। চোখে সেই পরিচিত কালো রোদচশমা আর সাদা পাঞ্জাবিতে বিধায়ক মদন মিত্র যোগ দিলেন বিরোধী তথা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। আর নতুন শিবিরে পা দিয়েই নিজের দলত্যাগ ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে চিরপরিচিত ‘কালারফুল’ মেজাজে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য ছুড়লেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দল এখন ডুবন্ত নৌকা, তাই সঠিক সময়েই তিনি বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে নতুন শিবিরের ঘর থেকেই মদন মিত্র তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ও লাভলি! এটা আসলে বদলের ইঙ্গিত, ঝড়ের ইঙ্গিত।” দলবদল এবং নিজের বিধায়ক পদ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি একগুচ্ছ কড়া মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে মদন মিত্র বলেন, “আমি তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। আমি ঘর বদলেছি, বাড়ি বদলাইনি।” বিধানসভায় শুধু মমতা শিবিরের ঘর ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বসার কথাই ইঙ্গিত করেন তিনি।
তৃণমূলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকটকে তীব্র কটাক্ষ করে মদন বলেন, “নৌকো ইতিমধ্যে ডুবে গিয়েছে, দল এখন ভয়ে কাঁপছে।” এমন পরিস্থিতিতে দলে থাকা অসম্ভব বলেই তিনি মনে করেন। মদন মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের কমিটির দায়িত্ব থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। তবে কামারহাটির মানুষ তাঁকে জিতিয়েছেন, তাই তিনি বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না।
দল ছাড়ার পরেই তিনি বড় ঘোষণা করে বলেন, “তৃণমূলের সমস্ত পদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। তার মানে কার্যকর বা ব্যবহারিক অর্থে আমি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিধায়ক নই।” মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাংগঠনিক পদ ছাড়লেও বিধায়ক পদ না ছাড়ার এই কৌশল আসলে মমতা শিবিরের উপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।