প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক মুখে রাজ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উলটপুরাণ। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আজ, বুধবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে সরাসরি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর পাশে আসন নেন মদন। সেখান থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরে।

রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়ে আজ দুপুরে হঠাৎই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠকের পর তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই দলবদলের সলতে পাকানো হয়েছিল মঙ্গলবার রাতেই। গতকাল এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা প্রবীণ নেতা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন মদন মিত্র। তার পরদিনই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিলেন তিনি।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃনমূলের অন্দরের সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শীর্ষ পদ থেকে সরানোর দাবি তুলে অরূপ রায়ের নেতৃত্বে যে সমান্তরাল বা ‘আসল তৃণমূল’ মঞ্চ তৈরি হয়েছে, তার রাশ এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’ একের পর এক বিশ্বস্ত সেনাপতি হারাচ্ছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) এবং অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট) মতো হেভিওয়েটরা আগেই দূরত্ব বাড়িয়েছেন। উত্তরবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পর এবার মদন মিত্রের মতো মাস-লিডার ও প্রবীণ নেতার এই বিদায় কালীঘাটকে কার্যত কোণঠাসা করে দিল। ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের ঠিক এক সপ্তাহ আগে মদন মিত্রের এই বিদ্রোহ মমতার নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।