প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির অন্দরে এবার এক নতুন আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক আছড়ে পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এবার পৌঁছাল দিল্লির সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তিকরণ (Enrolment) এবং ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ (COP)-এর বৈধতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে অত্যন্ত কড়া ভাষায় রিপোর্ট তলব করল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই স্পর্শকাতর বিষয়ের যাবতীয় মূল নথি দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় আদালতে সওয়াল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আজ, ১৪ মে কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মামলায় আইনজীবীর গাউন পরে তিনি সশরীরে সওয়ালে অংশ নেন। একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা ব্যক্তিত্বের এভাবে হঠাৎ আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করা নিয়ে আইনজীবী মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। আইনি মহলের একাংশের দাবি, তিনি নিয়ম মেনে তাঁর আইনি লাইসেন্স পুনরুজ্জীবিত (Resume) করেছিলেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আসরে নামল দেশের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা BCI। রাজ্য বার কাউন্সিলকে পাঠানো চিঠিতে BCI মূলত ৪টি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্তকরণের সঠিক তারিখ এবং আসল রেকর্ড কী? তাঁর আইনি প্র্যাকটিসের লাইসেন্স বর্তমানে সক্রিয় নাকি স্থগিত রয়েছে? দীর্ঘ সময় সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকার দরুন নিয়ম অনুযায়ী তাঁর লাইসেন্স স্থগিত (Suspend) করা হয়েছিল কিনা? যদি হয়ে থাকে, তবে কোন তারিখে এবং কোন নিয়ম মেনে তা পুনরায় চালু করা হলো? আদালতে সওয়াল করার জন্য তাঁর কাছে এই মুহূর্তে বৈধ ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ (COP) রয়েছে কিনা।

বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নথিভুক্ত আইনজীবী যদি কোনো লাভজনক পদে (যেমন মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী) বসেন বা অন্য পেশায় যুক্ত হন, তবে তাঁকে অবিলম্বে তাঁর আইনি প্র্যাকটিসের লাইসেন্স সারেন্ডার বা স্থগিত রাখতে হয়। সেই পদ থেকে সরে যাওয়ার পর যদি তিনি আবার আদালতে সওয়াল করতে চান, তবে বার কাউন্সিলের কাছে আবেদন জানিয়ে নিয়মমাফিক লাইসেন্স পুনরুজ্জীবিত করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে এই আইনি প্রক্রিয়াগুলি যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছিল কিনা, রাজ্য বার কাউন্সিলের মূল এনরোলমেন্ট রেজিস্টার এবং ইনওয়ার্ড ডায়েরি খতিয়ে দেখে তা যাচাই করতে চাইছে BCI।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা রাজ্য বার কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা এবং স্বশাসিত ক্ষমতার ওপর এক বড়সড় ধাক্কা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য বার কাউন্সিল কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং তার ওপর ভিত্তি করে BCI কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনি পরিমণ্ডলে ফেরার ভবিষ্যৎ।