প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এবারের লড়াই কেবল ভোটপ্রাপ্তি বা রাজনৈতিক ক্ষমতার নয়, বরং নৈতিকতা এবং নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিতে চলেছে। এই আবহেই এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার (যাঁকে আন্দোলনকারীরা ‘অভয়া’ নাম দিয়েছেন) মাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে প্রচারে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে, নির্যাতিতার মা কোনো প্রথাগত রাজনীতিক নন, বরং তিনি এক বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। বিজেপি ইতিমধ্যেই তাঁকে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। কিন্তু শুভেন্দু চাইছেন এই লড়াইয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত হোক। তাঁর মতে, পানিহাটির পাশাপাশি যদি নির্যাতিতার মা দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন, তবে তা রাজ্যের নারী নিরাপত্তার বাস্তব চিত্রটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর হলো রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা। সেখানে দাঁড়িয়ে একজন শোকাতুর মায়ের আর্তি সরাসরি সরকারের ‘ব্যর্থতা’র দিকে আঙুল তুলবে। শুভেন্দু অধিকারীর এই কৌশলের পেছনে রয়েছে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য— প্রথমত, আরজি কর কাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলা; এবং দ্বিতীয়ত, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে দাঁড়িয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন তোলা।

শুভেন্দুর কথায়, “মা যখন বিচার চাইবেন, তখন সাধারণ মানুষ সেই দাবির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারবেন।” নির্যাতিতার মা নিজেও সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা যেন আর কারোর সাথে না হয়, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। রাজনীতিতে আসা তাঁর কাছে মেয়ের লড়াইকে পূর্ণতা দেওয়ার একটি মাধ্যম।

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রচার পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি নির্যাতিতার মা শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের রাস্তায় পা রাখেন, তবে তা ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আমূল বদলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, বঙ্গ রাজনীতিতে এখন নজর শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোকের দিকে। আরজি করের ঘটনার পর থেকে যে নাগরিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, শুভেন্দু তাকেই এখন ব্যালট বক্সের লড়াইয়ে রূপান্তর করতে চাইছেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় আবেগ এবং যুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে বিজেপি মানুষের মনের কতটা কাছে পৌঁছাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।