প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদের যোগদানের পর এবার সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় দাবি করল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে দলটির দাবি— সংসদীয় আসনের নিরিখে তারাই এখন পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (NCPI)-এর।
আজ সোমবার নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ গ্রাফিক্স ও তালিকা প্রকাশ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া। সেখানে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো ২০ জন হেভিওয়েট বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে দলে স্বাগত জানানো হয়। ঐ পোস্টে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই মেগা দলবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসনের চেনা সমীকরণ রাতারাতি বদলে গেছে। NCPI-এর শেয়ার করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান আসন বিন্যাস:NCPI (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া): ২০টি আসন।বিজেপি (BJP): ১২টি আসন। তৃণমূল কংগ্রেস (AITC): মাত্র ৮টি আসন। কংগ্রেস (INC): ১টি আসন। নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে এই হিসাব তুলে ধরে NCPI দাবি করেছে, তৃণমূলকে বহু পিছনে ফেলে এবং বিজেপিকে টপকে তারাই এখন লোকসভার নিরিখে বাংলার প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে NCPI শুধু নিজেদের শক্তির আস্ফালন করছে না, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই একযোগে NCPI-তে চলে যাওয়ায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮-এ। ফলে তারা রাজ্যে বিজেপি (১২) এরও নিচে অর্থাৎ তিন নম্বরে নেমে গেছে, যা এই পোস্টে বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে। ২০ জন সাংসদ একজোট হয়ে এই দলে আসায় দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) কার্যকর হচ্ছে না।
NCPI তাদের ফেসবুক পোস্টে এই ২০ জনকেই নিজেদের সাংসদ হিসেবে দাবি করে বুঝিয়ে দিল, আইনি দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হওয়া এবং হাওড়ার সাঁকরাইলে সদর দফতর থাকা এই অখ্যাত দলটি এই একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে রাতারাতি জাতীয় মিডিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছে। সংসদে ইতিমধ্যেই এই ২০ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা বসার আবেদন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রে এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে NCPI-এর এই চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্ট এবং এক নম্বর দল হওয়ার দাবি নিয়ে তৃণমূল শিবিরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।