প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার পর, এবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মুর্শিদাবাদের দুই এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ। আজ, ৮ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) আয়োজিত এই বৈঠকে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ট্রাইব্যুনালের সময়সীমা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ আবু তাহের খান জানান, নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলাতেই বাদ পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষের বেশি ভোটার।সাংসদের দাবি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে তাঁদের জানিয়েছেন যে, এই বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন বা আপিল করতে পেরেছেন। বাকি ২০ লক্ষ মানুষ আইনি জটিলতা বা কাগজপত্রের নিয়ম সময়মতো না বোঝার কারণে এখনও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারেননি।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, জমি রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সরব হন দুই সাংসদ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংসদেরা স্পষ্ট জানান, যে ২০ লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের হয়ে অবিলম্বে আদালতের দ্বারস্থ হবেন দুই সাংসদ। সাধারণ মানুষ যাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার জন্য আরও কিছুটা সময় পান, সেজন্য আদালতের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হবে। সাংসদদের এই মানবিক আর্জিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সবরকম প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই সদিচ্ছায় তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলে জানান আবু তাহের খান।
SIR বা ভোটার তালিকার পাশাপাশি রাজ্যে শব্দদূষণ রোধে হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনে ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার খোলার বিষয়টিতেও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন দুই সাংসদ। আবু তাহের খান জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে নিয়ম মেনেই বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। সাংসদদের অনুরোধ, শব্দদূষণের আইন ও নির্দেশিকা যেন সব ক্ষেত্রে সমানভাবে বলবৎ হয়।