প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড জয়ের পরেই প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে বাংলা দখলের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। আর তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতারা তো বটেই, কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতারাও প্রত্যেকেই বলছেন যে, এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে জঙ্গলরাজ উৎখাতের পালা। আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যারা অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছেন, নাম না করে তাদের আক্রমণ করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই তার আক্রমণ কাদের দিকে ছিল, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেননা অমিত শাহ যখন এই আক্রমণ করছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের বুকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এসআইআরের মাঝেই প্রচুর বাংলাদেশী এপার বাংলা থেকে ওপারে ফিরে যাওয়ার জন্য তৎপরতা দেখাচ্ছেন। যার ফলে বঙ্গ বিজেপির নেতারা দাবি করছেন যে, তারা এতদিন যে অনুপ্রবেশের কথা বলে আসছেন, এই চিত্র সামনে আসার পর তা স্পষ্ট হয়ে গেল। আর এসবের মধ্যেই এবার কেন্দ্রীয় বিজেপির পক্ষ থেকে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অরাজকতার প্রতীক বলে আক্রমণ করা হলো। যাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিহারে বিজেপি তথা এনডিএ শিবির যে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেছে, তারপরেই তাদের নজর পশ্চিমবঙ্গ দখলের দিকে থাকবে, এটা বঙ্গ বিজেপির নেতারা প্রত্যাশা করেছিলেন। আর সেই দিনই জয়ের সেলিব্রেশন করতে গিয়ে দিল্লির বিজেপির সদর দপ্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ দখল করার বার্তা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যার ফলে বঙ্গ বিজেপির নেতারা যথেষ্ট উজ্জীবিত হয়ে পড়েছেন। হাতে আর দুটো মাস বাকি। তারপরেই নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। বঙ্গ বিজেপির নেতারা রীতিমত কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর তাদেরকে সাথ দিয়েই এবার কেন্দ্রীয় বিজেপির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রীতিমত কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে।
এদিন কেন্দ্রীয় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। যেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় বিজেপির মুখপাত্র গৌরবন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরাজকতার প্রতীক। জঙ্গলরাজ একদম মমতার রাজত্বের মতই হয়। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে ভর করেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জিততে চান মমতা।” আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় বিজেপিও যেভাবে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের মতই অনুপ্রবেশ ইসুতে সোচ্চার হচ্ছেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গই গেরুয়া শিবিরের কাছে প্রধান টার্গেট। এখন রাজ্য বিজেপি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিজেপি যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে, তা কি করে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজনৈতিক মহলের।