প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে জয়-পরাজয় মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বোধহয় এই প্রথমবার মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে অস্বীকার করার এক অদ্ভুত ‘জেদ’ প্রত্যক্ষ করছে রাজ্যবাসী। ২০২৬-এর নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ যখন তৃণমূল কংগ্রেসকে মাত্র ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রেখে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন, তখন সেই রায়কে সম্মান জানানো তো দূরস্ত, উল্টে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করে এক নজিরবিহীন ‘গণতান্ত্রিক সার্কাস’ শুরু করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, খোদ নিজের খাসতালুক ভবানীপুর থেকেই সাধারণ মানুষ তাঁকে বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—যাঁকে নিজের এলাকার মানুষ প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিলেন না, তিনি কোন নৈতিক অধিকারে গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ারটি আঁকড়ে ধরে আছেন? ইভিএম কারচুপির যে পুরনো রেকর্ড তিনি বাজাচ্ছেন, তা কি কেবলই হারের গ্লানি ঢাকার এক ব্যর্থ চেষ্টা, নাকি বাংলার মানুষের বিচারবুদ্ধিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ধৃষ্টতা?
বিজেপি যখন ২০৭টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত, তখন তৃণমূল শিবিরের এই ‘মাঠ ছেড়ে না পালানোর’ ঘোষণা আসলে গণতন্ত্রের গায়ে এক সজোরে চপেটাঘাত। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে হারলে পদত্যাগ করাই সংসদীয় রাজনীতির শোভা। কিন্তু এখানে পরাজয়কে স্বীকার করার মত রাজনৈতিক সৌজন্যের বদলে দেখা যাচ্ছে কুর্সি বাঁচানোর মরিয়া লড়াই। তৃণমূলের এই আচরণ কি প্রমাণ করছে যে, তারা আসলে জনমতের চেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়?
প্রশাসনিক অলিন্দে এখন একটাই গুঞ্জন—’মমতা কি তবে সংবিধানের ঊর্ধ্বে?’ ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার কোনো আইনি অধিকার নেই। অথচ, সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইস্তফা না দেওয়ার এই নাটক বাংলাকে এক গভীর সাংবিধানিক সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলার মানুষ দেখছেন, কীভাবে পরাজয়ের যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।
শেষ পর্যন্ত কি শুভবুদ্ধির উদয় হবে, নাকি রাজ্যপালকে ‘বরখাস্ত’ করার মতো কঠোর পথে হেঁটেই এই নাটকের যবনিকা টানতে হবে? বাংলার সচেতন নাগরিক সমাজ কিন্তু তৃণমূলের এই ‘অগণতান্ত্রিক অনড়তা’র হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি।