প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এখন এক প্রলয়ংকারী ঝড়ের ইঙ্গিত। ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের অন্দরমহলে যে ক্ষোভ ধিকধিক করে জ্বলছিল, তা এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল মালদহে। দলের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি তথা প্রভাবশালী নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবার সরাসরি আঙুল তুললেন দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর বিস্ফোরক দাবি— জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি দলকে স্রেফ ‘কর্পোরেট হাউস’ বানাতে গিয়েই আজ এই পতন।
তৃণমূলের অন্দরে সাধারণত যা উচ্চারণ করতে সবাই ভয় পান, সেই সত্যই এবার জনসমক্ষে এনেছেন কৃষ্ণেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দলের রাশ এখন আর মা-মাটি-মানুষের নেতাদের হাতে নেই, বরং চলে গিয়েছে একটি পেশাদার সংস্থার (আইপ্যাক) কবজায়। কৃষ্ণেন্দুর মতে, বাংলার মাটি ও মানুষের পালস না বুঝে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে প্রার্থী ঠিক করার যে সংস্কৃতি অভিষেক শুরু করেছিলেন, তারই মাসুল গুনতে হচ্ছে দলকে। অযোগ্য প্রার্থী এবং তৃণমূলের চিরাচরিত ভাবমূর্তির বদলই কি ঘাসফুল শিবিরের এই দশার কারণ? কৃষ্ণেন্দুর বয়ানে উঠে আসছে সেই গভীর আক্ষেপ।
প্রবীণ এই নেতার সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে। তাঁর দাবি, অভিষেক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেকটা ‘ধৃতরাষ্ট্রের’ মতো আড়াল করে রেখেছিলেন। দলের পুরনো কর্মীদের ব্রাত্য করে দিয়ে তথাকথিত আধুনিকীকরণের নামে তৃণমূলকে যে তিলে তিলে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কৃষ্ণেন্দুর এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে।
কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর এই রুদ্রমূর্তি তৃণমূলের সাংগঠনিক ফাটলকে জনসমক্ষে এনে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন দীর্ঘদিনের নেতা যখন নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘যোগ্যতা’ ও ‘কৌশল’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন বুঝে নিতে হয় চোরাস্রোত অনেক গভীরে। বাংলার সাধারণ মানুষ কি তবে এবার এই ‘কর্পোরেট রাজনীতি’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন? কৃষ্ণেন্দুর এই বিদ্রোহ কি তৃণমূলের পতনের শেষ পেরেক? উত্তর দেবে সময়।
তবে একটা কথা স্পষ্ট, মালদহের এই দাপুটে নেতার কন্ঠে আজ যা শোনা যাচ্ছে, তা হয়তো বাংলার কোটি কোটি বঞ্চিত কর্মীর মনের কথা। লড়াইটা এখন আর বাইরের নয়, লড়াইটা শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের ভেতরেই— ‘আসল বনাম কর্পোরেট’।