প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধায়ক হওয়া মানে শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ তুলে ধরা নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আইনসভার ভেতর তা প্রতিষ্ঠা করা। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী অধিবেশন থেকে জনপ্রতিনিধিদের সংসদীয় রীতিনীতি ও শিষ্টাচার শিক্ষার কড়া পাঠ দিলেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ। উন্নত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিধায়কদের আইন প্রণয়ন ও নিয়মানুবর্তিতার ওপর আরও বেশি দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিবংশ বলেন, আইনসভার প্রধান কাজ হলো সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী আইন তৈরি করা। আর তার জন্য দরকার প্রতিটি বিল ও সরকারি বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ। নবাগত বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট পরামর্শ, “আইনসভায় কোনো বিষয়ে আলোচনার আগে বা কোনো বিলের বিরোধিতার আগে তা নিয়ে গভীর পড়াশোনা করা প্রয়োজন। যুক্তি এবং সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করলেই একজন জনপ্রতিনিধি আইনসভার ভেতরে ও বাইরে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেন।”
বক্তৃতায় আইনসভার ‘কমিটি ব্যবস্থা’ (Committee System)-এর ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিধানসভার বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিগুলো দলীয় রাজনীতির গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করে। এই কমিটিগুলোতে সরকারের বিভিন্ন পলিসি ও আর্থিক বরাদ্দের ওপর যে ধরনের স্ক্রুটিনি বা নজরদারি চালানো হয়, তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে। তাই নতুন বিধায়কদের কমিটির কার্যপ্রণালী গভীরভাবে রপ্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে হরিবংশ বলেন, বাংলার আইনসভার একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এই বিধানসভার গরিমা ও সংসদীয় রীতিনীতি রক্ষা করার দায়িত্ব বর্তমান বিধায়কদের কাঁধেই ন্যস্ত। আইনসভার রীতিনীতি ও পারস্পরিক সৌজন্য রক্ষা করে নতুন বিধায়করা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।