প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আর তার মধ্যেই বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার নন্দীগ্রামে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ধস নামাল ভারতীয় জনতা পার্টি। রামনবমীর পুণ্যলগ্নে এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল ও বর্ণাধ্য মিছিলের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের দাপুটে নেতা সুব্রত জানা গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই মেগা যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সুব্রতবাবুর সঙ্গে এলাকার আরও ২০টি প্রভাবশালী পরিবার তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে শামিল হয়েছেন।
বাংলার রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম মানেই এক অনন্য আবেগ এবং লড়াইয়ের ময়দান। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছিলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। সেই হারের ক্ষত তৃণমূলের কাছে আজও টাটকা। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল যখন মরিয়া হয়ে এই গড় পুনরুদ্ধারের ছক কষছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সুব্রত জানার মত বুথ স্তরের পোড়খাওয়া সংগঠকের দলবদল শাসকদলের সেই পরিকল্পনায় বড়সড় ধাক্কা দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামের লড়াই বরাবরই নিচুতলার কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। সুব্রত জানা দীর্ঘ সময় ধরে সেই সংগঠনের অন্যতম প্রধান খুঁটি ছিলেন। তাঁর প্রস্থান মানে কেবল একজন নেতার বিদায় নয়, বরং তৃণমূলের একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংকের হাতবদল।
শুভেন্দু অধিকারী বারেবারেই দাবি করেছেন যে, নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁর পাশেই আছেন। এদিনের যোগদান কর্মসূচিতে তিনি সেই দাবিরই প্রতিফলন দেখালেন। সুব্রত জানার সঙ্গে আসা ২০টি পরিবার এলাকায় সামাজিকভাবে বেশ প্রভাবশালী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ব্যক্তিগত জনসংযোগ এবং পারিবারিক প্রভাব ভোটের ফলে বড় ভূমিকা নেয়, সেখানে এই ২০টি পরিবারের অন্তর্ভুক্তি বিজেপির পাল্লা অনেকখানি ভারী করল। শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে গেরুয়া পতাকা নেওয়ার পর সুব্রত বাবু জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে যে দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার থেকে মুক্তি পেতেই এই সিদ্ধান্ত। উন্নয়ন ও ন্যায়ের লড়াইয়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
যোগদান কর্মসূচি শেষে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নন্দীগ্রামের মাটি বিশ্বাসঘাতকদের জায়গা দেয় না। মানুষ এখন বুঝতে পারছেন কোন পথে রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন এবং শান্তি সম্ভব। আমাদের লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে, আমাদের লড়াই বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে জেলাজুড়ে আরও বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বিজেপির ছত্রছায়ায় আসার জন্য যোগাযোগ করছেন। তাঁর মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের মহড়া এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল।
ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার এই রণকৌশলকে শুভেন্দু অধিকারীর এক পরিকল্পিত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হেভিওয়েট নেতার প্রস্থান তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীদের মনোবলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। রামনবমীর ধর্মীয় আবহে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে বিজেপির দাপট আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘গণবিস্ফোরণ’ হিসেবে দেখলেও, তৃণমূল শিবিরের কাছে এটি নির্বাচনের আগে এক বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়।