প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার বৃত্তে যখন নিজের ছবিকে বড় করে দেখানোর ইঁদুরদৌড় বর্তমান, ঠিক তখনই এক অনন্য রাজনৈতিক উদারতার নজির সৃষ্টি করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় বৈঠকে নিজের ছবি সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিকে অগ্রাধিকারে রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং কঠোর প্রোটোকল মেনে চলা একটি অনন্য শৃঙ্খলিত সংগঠন। শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬, বিজেপির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল এবং অমিত মালব্য।
বৈঠক শুরুর পূর্বেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মঞ্চের মূল ব্যানারটি। সেখানে তাঁর নিজের ছবি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল, তা নিয়ে তিনি নিজেই আপত্তি তোলেন। শমীকবাবু স্পষ্ট ভাষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকর্তাদের নির্দেশ দেন, ব্যানার থেকে তাঁর নিজের ছবি পিছনের সারিতে নিয়ে গিয়ে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিকে সবার সামনে এবং প্রধান গুরুত্ব সহকারে রাখতে হবে। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের পর দ্রুত দলীয় ব্যানারের বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই পদক্ষেপ সমসাময়িক রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল। নিজের পদের অহংকারকে দূরে সরিয়ে, দলীয় সতীর্থ তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ায় তাঁর এই সিদ্ধান্ত এক অনন্য রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় বহন করে।
লাইমলাইটে থাকার অন্ধ মোহ ত্যাগ করে কীভাবে একজন প্রকৃত জননেতা দলের স্বার্থে কাজ করতে পারেন, শমীকবাবু আজ তা হাতে-কলমে দেখিয়ে দিলেন। এই ঘটনাটি কেবল কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বিজেপির গভীর সাংগঠনিক মূল্যবোধ এবং পদ্ধতিগত (Systematic) কার্যধারার প্রতীক। অন্য দলগুলিতে যেখানে ব্যানার বা পোস্টারে কার ছবি কত বড় হবে তা নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়, সেখানে বিজেপির অন্দরে শৃঙ্খলা এবং পদমর্যাদার প্রোটোকল কতটা সুচারুভাবে কাজ করে, এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই ঘটনা বার্তা দেয় যে, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করাই প্রতিটি স্তরের কার্যকর্তার মূল লক্ষ্য।