প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইন যে সবার জন্য সমান, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো বীরভূমের মাটিতে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এবার খোদ পুলিশের জালে দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূলের দাদাগিরি করা নেতা স্বপন মণ্ডল এবং তাঁর ছেলে দীপাঞ্জন মণ্ডল। নতুন জমানায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সদাইপুর থানার পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপের পর বীরভূম জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে বীরভূমের দুবরাজপুরের পারুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন হাজরাপুর এলাকায় সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যবাহী ‘২৪ প্রহর কীর্তন’ অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পরও তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। বৈঠক চলাকালীন আচমকাই তৃণমূল নেতা স্বপন মণ্ডলের বাড়ি এবং তার চারপাশ থেকে বৈঠক লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট ও পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। হিংস্র এই অতর্কিত হামলায় মাঠেই রক্তাক্ত হন চারজন নিরীহ বিজেপি কর্মী। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি সিউড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যেখানে তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
পবিত্র ধর্মীয় উৎসবে এই বর্বরোচিত হামলা ও সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাতের ঘটনায় গর্জে ওঠেন গ্রামবাসীরা। রাতেই সদাইপুর থানায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্তরা। পারুলিয়া গ্রামে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছালে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ আসরে নামে পুলিশ প্রশাসন। ভোররাতেই সদাইপুর থানার পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা স্বপন মণ্ডল এবং তাঁর ছেলে দীপাঞ্জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে মানুষ পরিবর্তন আনলেও তৃণমূলের কিছু নেতা এখনো সন্ত্রাস ছড়ানোর পুরনো মানসিকতা থেকে বেরোতে পারেনি। তবে এখন আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই, আইন নিজের পথেই শাস্তি দেবে। বরাবরের মতোই নিজের অপরাধ ঢাকতে ধৃত বিরোধী নেতা স্বপন মণ্ডলের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টে নাকি তাঁর বাড়িতেই হামলা হয়েছিল এবং পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে গ্রেফতার দেখিয়েছে।বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পুনরায় কোনো হিংসাত্মক ঘটনা রুখতে পারুলিয়া গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। আইনের শাসনে কোনো রাজনৈতিক রঙ দেখা হবে না, পুলিশের এই পদক্ষেপ সেটাই স্পষ্ট করে দিল।