প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চিকিৎসকদের কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজো প্যান্ডেলে প্রবল ভিড় ও বৃষ্টির জেরে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলাকালীন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের গভীর রাতের প্রেস কনফারেন্স নিয়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষুব্ধ বর্তমান প্রশাসন। এবার সেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল বা সরকারি নিয়মবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কড়া আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় নিয়ম ভেঙে বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি কড়া সুরে বলেন, “আমি প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে বলেছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আছেন, এদেরই কাজ। ওই ডাক্তারগুলো যারা প্রেস করছিল সেই সময় তাদের ডিউটি ছিল কিনা সেটা বের করতে। ওই সময় যদি ডিউটি থেকে থাকে তাহলে উনি যদি বাইরে বেরিয়ে এসে প্রেস কনফারেন্স করে থাকেন, ওটা ওঁর সার্ভিস রুলের পরিপন্থী। তার জন্য সার্ভিস রুলে যা যা লেখা আছে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দফতর নির্দেশ পাবে।”
চোরবাগান ট্র্যাজেডির দিন আহত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরই প্রশাসনের নির্দেশে বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত (রেফার) করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ গভীর রাতে প্রেস কনফারেন্স করে অভিযোগ তোলেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মত প্রথম সারির সরকারি হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধ ও ট্রমা কেয়ারের জরুরি পরিকাঠামোর তীব্র অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকার কারণেই রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারির পর স্বাস্থ্যমহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়ে সেই রাতে রাজনৈতিক নেতাদের মতো সাংবাদিক বৈঠক করা চিকিৎসকদের ছবি দেখে তাঁদের চিহ্নিত করার এবং ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের একাংশ এই হুঁশিয়ারির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার সময় জুনিয়র ডাক্তারদের তৎপরতার কারণেই বহু মানুষের প্রাণ বেঁচেছে। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর যে খামতি রয়েছে, তা ধামাচাপা দিতেই এভাবে সার্ভিস রুল দেখিয়ে চিকিৎসকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি তুলেছেন চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন।