প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে বুধবার তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ও পাড়ার বুথে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় নিয়ে বিধানসভার অভ্যন্তরে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনের ফলাফলের খতিয়ান টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এত বড় নেত্রী, মিত্র ইনস্টিটিউশনের ৪টি বুথেই হেরেছেন আমার কাছে! পাশের বাড়ির লোকও আপনাকে ভোট দেয় না।” এখানেই থামেননি তিনি, ঘরের ভেতরের অত্যন্ত গোপন রাজনৈতিক সমীকরণ ফাঁস করে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “আপনার নিজের বাড়ির কাজের লোকেরাও চোখ মেরে আমাকে বলেছে, ভোট আপনাকেই দিচ্ছি।”
অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর নিজের ওয়ার্ডে হার নিয়ে কটাক্ষ করতেন। সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে বলতেন, আমি নাকি নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারি না। ভগবানের এমন মার যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে নিজের ওয়ার্ডেই আপনি চার হাজার ভোটে হেরে বসে আছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় ‘মাস লিডার’ বা জননেত্রী ছিলেন যখন অটলবিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ তাঁর মাথায় ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কেবল পুলিশ আর আইপ্যাক-এর (I-PAC) মতো দুটো খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করেছেন। এখন সেই দুটো খুঁটিই সরে গেছে।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি আইনি পথেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ভবানী ভবনে যে সমস্ত মামলার তদন্ত ‘এফআরটি’ (Final Report True) দিয়ে ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই সব মামলার ফাইল আবার নতুন করে খোলা হবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। বিধানসভায় অন-রেকর্ড দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “বেঁচে থাকতে থাকতে আপনি যে প্রতিষ্ঠিত চোর, সেটাও প্রমাণ করব।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের সময় তৃণমূলের বিধায়ক আসনগুলি থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে সরকার পক্ষ কেবল বিরোধী নেতৃত্বকে নিশানা করতেই ব্যস্ত।