প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। চিরপরিচিত ফর্মাল পোশাকের বদলে আজ এই বিশেষ জাতীয় উৎসবে সাবেকি বাঙালি ঐতিহ্য মেনে ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে রেড রোডের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এক বড় চমক দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।বদলের বাংলায় এই বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঘিরে গোটা রেড রোড চত্বর সেজে উঠেছিল এক নতুন রূপে।
লাল কেল্লার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বছরই প্রথমবার রেড রোডের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়েছে দেশের জাতীয় গীত। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী পোডিয়ামে এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই এই সুর বাতাসে ভেসে আসে। এর পরপরই প্রথা মেনে পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন আকাশ থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে রেড রোডে উপস্থিত দর্শকদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়।
এবারের স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী উদ্যোগ ও নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে তুলে ধরে প্রায় ১২টি সুসজ্জিত ট্যাবলো অংশ নেয়। যার মধ্যে সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নবগঠিত সরকারের নতুন প্রকল্পসমূহ: অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana), ভিজিবি রামজি প্রকল্প (VGB Ramji Project), আবাসন মিশন এবং মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা।পাশাপাশি নারী শক্তির বার্তা দিতে কলকাতা পুলিশের প্রমিলা বাহিনী তথা ‘দুর্গা শক্তি স্কোয়াড’-এর রয়্যাল এনফিল্ড বাইকের রোমহর্ষক স্টান্ট ও প্যারেড দর্শকদের করতালি কুড়ায়।
কলকাতার মূল প্রশাসনিক কুচকাওয়াজ সম্পন্ন করার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের মহিমা ও সরকারি উন্নয়ন রাজ্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি কলকাতা থেকেই সরাসরি রওনা দিচ্ছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে। সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীদের উপস্থিতিতে আরও একটি বিশেষ তেরঙ্গা যাত্রা ও পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজ্যের ইতিহাসে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর রেড রোডের মূল অনুষ্ঠান সেরে সরাসরি সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপে গিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঘটনা এই প্রথম।