প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বড়সড় পুলিশি তৎপরতা বিধাননগরে। সল্টলেকের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকার তোলাবাজি এবং সপরিবারে খুনের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। আজ, ৯ জুন ২০২৬ ভোররাতে রাজারহাটের বিলাসবহুল আবাসন থেকে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সল্টলেক এলাকার এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি তোলা দাবি করার অভিযোগ উঠেছিল এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে দায়ের হওয়া সুনির্দিষ্ট মামলার (FIR) ভিত্তিতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গভীর রাতে সব্যসাচী দত্তর রাজারহাটের বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। আজই তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

সব্যসাচী দত্তর গ্রেফতারির পরেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শাণানো হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “তৃণমূল জমানার সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজি সংস্কৃতির কারণেই বাংলায় ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ এখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং আইন নিজের পথে চলছে। চোর ও তোলাবাজদের ঠাঁই এবার জেলেই হবে।”

উল্লেখ্য, সব্যসাচী দত্ত বরাবরই রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম চর্চিত মুখ। পূর্বে তিনি বিধাননগরের মেয়র ছিলেন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পুনরায় তৃণমূলে (ঘর ওয়াপসি) ফিরে যান। ২০২৬-এর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নতুন রাজনৈতিক হাওয়ায় তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনে হারের পরেও বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান পদে আসীন থেকে তিনি সমান্তরাল সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।