প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ির রাজনৈতিক আঙিনা। বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দিলেন শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব। তবে তার ভোটদানকে ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এল নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের বদলি নিয়ে তাঁর করা একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য। যা ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

এদিন সকালে শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের ১৭৩ নম্বর বুথে ভোট দিতে পৌঁছান গৌতম দেব। কোনও ভিআইপি সুবিধা না নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে সম্মান জানাতেই তাঁর এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোট দিয়ে বেরিয়েই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন এই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাতেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি করা হয়েছে। গৌতম দেবের দাবি, “গতকাল রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের শিলিগুড়ি বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়োগের কথা থাকলেও, রাতারাতি আলিপুরদুয়ারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এখানেই থামেননি তিনি। সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন যে জুমলাবাজি শুরু করেছে, মানুষ তার বিরুদ্ধে ব্যালটেই জবাব দেবে।” কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তাঁর এই প্রশ্ন তোলা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রথম দফার এই নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর। শিলিগুড়ির মত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হেভিওয়েট প্রার্থী গৌতম দেবের এই মন্তব্য আদতে ভোটারদের আবেগ ও কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে স্পর্শ করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাসক শিবিরের দাবি, পরিকল্পনা করেই কর্মীদের সরিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তপ্ত রোদের মধ্যেও সকাল থেকে বুথে বুথে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে গৌতম দেবের এই অভিযোগের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।