প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) পদ হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত মিলল। বারাসাতের চারবারের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূলের সংসদীয় দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে হঠাৎই ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে পুরনো পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন কাকলি। তিনি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দল গঠনের আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা এই নেত্রী এভাবে ‘পুরস্কৃত’ হওয়ার কথা বলে আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র কটাক্ষ ও নিজের চরম অভিমান প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই রদবদলের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় বিপর্যয়। নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর বিজেপির নতুন সরকার গঠনের ফলে তৃণমূলের অন্দরে এখন তুমুল ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ভরাডুবির পর দলের রাশ শক্ত করতে এবং পুরনো বিশ্বস্ত সৈনিকদের ক্ষোভ প্রশমন করতেই মাত্র ৯ মাস আগে সরানো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তড়িঘড়ি আবার এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হলো। উল্লেখ্য, গত বছর কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে কল্যাণের প্রকাশ্য বিবাদের জেরে তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল।

তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। রাজ্য বিজেপির নেতাদের মতে, এটি তৃণমূলের তথাকথিত ‘শৃঙ্খলার’ আসল রূপ। চার দশক ধরে দল করা একজন প্রবীণ সাংসদকে যেভাবে এক লহমায় সরিয়ে দেওয়া হলো, তা প্রমাণ করে দলে কোনো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বা সিনিয়র নেতাদের সম্মান অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় তৃণমূল এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই আকস্মিক ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান কেবল লোকসভার সমীকরণেই নয়, বরং বঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডেলের আবহে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।