প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার অলিন্দ থেকে চ্যুত হওয়ার পর এবার অন্দরের কোন্দল ও কেলেঙ্কারি ঢাকতে মরিয়া রাজ্যের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। এক নজিরবিহীন ‘সই-জালিয়াতি’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ দলের অন্দরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধী আসনে বসার পর যেখানে দলের একতা ধরে রাখা উচিত ছিল, সেখানে এই তড়িঘড়ি বহিষ্কারের ঘটনা আসলে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলাকেই জনসমক্ষে বেআব্রু করে দিল।

বিধানসভার একটি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিধায়কদের সই জাল করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সূত্রের খবর, এই দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক নিজেরাই সই-কাণ্ডের অনিয়ম নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সই জাল বিতর্কের আবহে সোমবার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দুই বিধায়কের নাম প্রকাশ্যে আনেন। মুখ্যমন্ত্রী নাম সামনে আনার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূলের তরফে তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো গভীর বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই এত দ্রুত এই পদক্ষেপ কি কোনো লুকোনো রাজনৈতিক সত্যকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা? বহিষ্কারের পরেই দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, এই দল নাকি কোনো নৈতিক বা সঠিক কাজকে সমর্থন করতে পারে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়েই তাঁদের এই শাস্তির মুখে পড়তে হলো বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, যে দল নিজেদের স্বচ্ছতার ঢাক পেটায়, আজ তাদের নিজেদের ঘরের বিধায়কদের মুখ থেকেই এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং নীতিগত অবস্থান নিয়ে জনমানসে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।