প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল রাজ্য বিধানসভার অলিন্দে যা ঘটল, তাকে কি কেবলই রাজনৈতিক আকস্মিকতা বলা চলে? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনো গভীর মহানাটকের চিত্রনাট্য? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নটা উঠছে কারণ, যেভাবে রাতারাতি বিধানসভার ভেতরে এক নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। আর এই গোটা পর্বের কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁর নাম জড়িয়েছে, তিনি ঋতব্রত। কিন্তু বাংলার সচেতন রাজনৈতিক মহল আজ একটা বড়সড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে—ঋতব্রত কি সত্যিই একাই এই গোটা বিরোধী শিবিরকে নাড়িয়ে দিলেন? নাকি পর্দার আড়াল থেকে অন্য কেউ সুতো নাড়াচ্ছেন, এই জল্পনা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনীতিতে কোনো কিছুই বিনা কারণে ঘটে না, আর বিনা বাতাসে পাতাও নড়ে না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত চতুর এবং বাগ্মী নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ তা অকপটে স্বীকার করেন। কিন্তু বিধানসভার ভেতরে টেকনিক্যাল এবং রাজনৈতিক দিক থেকে যেভাবে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠিত হলো, তা একা একজন নেতার পক্ষে করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলের বিধায়কদের সমর্থন জোগাড় করা, বিধানসভার আইনি জটিলতা কাটানো এবং এত বড় একটা সাংগঠনিক পটপরিবর্তন করা—সবটাই কি একা ঋতব্রতর মস্তিষ্কপ্রসূত? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অনুমান, এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো বড় ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা অদৃশ্য হাত কাজ করে থাকতে পারে, যাঁরা ঋতব্রতকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। পর্দার আড়ালের সেই ‘খেলাধুলো’যদি রাজনৈতিক সমীকরণের গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করা যায়, তবে প্রশ্ন উঠবে এই ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনে প্রচ্ছন্ন সুবিধা কার? ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ধিকিধিকি জ্বলছিল, ঋতব্রতকে সামনে রেখে মূলত সেই ক্ষোভের বারুদেই হাওয়া দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, এই অদৃশ্য হাতটি কার হতে পারে?১) এটি কি ওই দলেরই কোনো শীর্ষ নেতার সুদূরপ্রসারী চাল, যিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে বাঁচিয়ে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছেন? ২) নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অদৃশ্য সুতোর টান রয়েছে, যা এই রাজনৈতিক শক্তিকে ভেঙে আরও টুকরো টুকরো করার এক কৌশল বলে বিরোধীরা দাবি করছেন?

জনগণ কিন্তু সবটাই লক্ষ্য করছেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর যেভাবে তড়িঘড়ি করে দল ভেঙে এই নতুন মঞ্চ বা গোষ্ঠী তৈরি হলো, তাতে এর স্থায়িত্ব এবং নৈতিকতা নিয়ে মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি কোনো আদর্শগত লড়াই থাকত, তবে তা বিধানসভার প্রকাশ্য বিতর্কে আসতে পারত। কিন্তু তা না করে যেভাবে তড়িঘড়ি করে এই ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করল, তা ক্ষমতার অলিন্দের এক জটিল খেলা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে যে, ঋতব্রত এখানে কেবলই একজন ‘ফ্রন্টম্যান’ বা দাবার বোড়ে মাত্র কি না, আর আসল খেলোয়াড়রা এখনো নেপথ্যেই রয়ে গেছেন কি না।

দিনের শেষে প্রশ্ন একটাই থেকে যায়—এই নাটকীয় পরিবর্তনের শেষ কোথায়? ঋতব্রতকে দাবার চাল বানিয়ে যিনি বা যাঁরা এই নতুন খেলা শুরু করলেন বলে জল্পনা চলছে, তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত এই সমীকরণ ধরে রাখতে পারবেন? বাংলার সাধারণ মানুষ কিন্তু এই ক্ষমতার অলিন্দের ভাঙনের রাজনীতিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখেন না। এখন দেখার, আগামী দিনে এই ‘নতুন তৃণমূল’ খড়কুটোর মতো ভেসে যায়, নাকি এর পেছনের আসল মুখাবয়ব খুব শীঘ্রই জনসমক্ষে চলে আসে। নজর থাকবে বিধানসভার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ওপরেই।