প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে সস্তার চমক দেওয়া এক জিনিস, আর মাটিতে পা রেখে মানুষের স্বার্থে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া আরেক জিনিস। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এক ঝটকায় দীর্ঘদিনের অবাস্তব ফানুসটি ফুটো করে দিলেন বাংলার দূরদর্শী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুক চিতিয়ে সত্যকে স্বীকার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর সম্ভব নয়। কারণ পূর্বতন জমানার অদূরদর্শিতা এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত জমির অভাব! কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী তো সেই নেতা নন যিনি শুধু সমস্যা দেখিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন। তিনি বিকল্প পথের দিশারী। তাজপুর বাতিল হলেও বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন যে এক ইঞ্চিও থমকে যাবে না, তা প্রমাণ করে নবান্ন থেকে এক দুর্দান্ত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তিনি। তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়ে বিকল্প গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে কোনো জমি জট ছাড়াই রাজ্য সরকারের নিজস্ব অধীনেই রয়েছে প্রায় ১৭০০ একর জমি।
বিগত ১০-১২ বছর ধরে শুধু শিল্পপতিদের ডেকে তাজপুর নিয়ে হাওয়া গরম করার চেষ্টা চলেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গোটা বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। তিনি সরাসরি আদানি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেন এবং তাঁদের প্রতিনিধি দলকেও এলাকা পরিদর্শনে পাঠান। একজন দক্ষ ও বিচক্ষণ প্রশাসকের মত মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন— রেলপথের উন্নত সংযোগ, জাতীয় সড়ক এবং বিশাল ওয়ারহাউস তৈরির জন্য তাজপুরে কয়েক হাজার একর জমির প্রয়োজন ছিল, যা রাজ্যের হাতে নেই। জোর করে মানুষের জমি কেড়ে নেওয়ার নীতিতে বিজেপি সরকার বিশ্বাস করে না। তাই কালক্ষেপ না করে, আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে অত্যন্ত পেশাদার আলোচনার মাধ্যমে এই বন্ধ্যা প্রকল্প থেকে রাজ্যকে বের করে এনেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছে বাংলার শিল্পমহল। দাদনপাত্রবাড়ে যেহেতু এই ১৭০০ একর জমি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন, তাই জমি অধিগ্রহণের কোনো জটিলতাই নেই এবং কাজ শুরু হবে দ্রুত গতিতে। ডবল ইঞ্জিনের সুফল হাতেনাতে প্রমাণ করতে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও ইতিমধ্যে কথা সেরে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্র থেকেও সবুজ সংকেত মিলেছে। শুধু দাদনপাত্রবাড়ে নতুন বন্দরই নয়, কলকাতা পোর্ট এলাকায় বিগত জমানায় গড়ে ওঠা বেআইনি দখলদারি আর সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধেও এদিন জেহাদ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, পোর্টের সমস্ত অবৈধ কাজ, তোলাবাজি ও গুন্ডামি এক ধাক্কায় বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি, কলকাতাবাসীকে উপহার দিতে চলেছেন অত্যাধুনিক ওয়াটার মেট্রো। হুগলি নদীর ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজও দ্রুত শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কথায় চিঁড়ে ভেজে না, কাজ করতে গেলে সঠিক সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে যে— কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রয়াসে বাংলা এবার সত্যিই শিল্পায়নের মূল স্রোতে ফিরতে চলেছে। জমির মিথ্যা নাটক না ফেঁদে, যা বাস্তব তাকে স্বীকার করে নিয়ে নতুন বিকল্প তৈরি করার এই যে সৎ সাহস— এটাই তো আসল সুশাসন। মেদিনীপুরের মাটি থেকে উঠে আসা ভূমিপুত্রের হাত ধরে বাংলা এবার নিজের হারানো গৌরব ফিরে পাবে।