প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর, এক মাসের মধ্যেই দলটিতে শুরু হয়ে গেল নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। লোকসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ের মতো শীর্ষ সাংসদেরা আজ সকালেই দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে হাজির হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আর এই হাইভোল্টেজ দলবদলের জল্পনার মাঝেই কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় দলনেত্রীর প্রতি তাঁর চাঁছাছোলা মন্তব্য, “মমতা দিদির এটাই প্রাপ্য ছিল!”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কুণাল ঘোষের এই বক্তব্য আসলে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের ভেতরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং পরাজয়ের চরম হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে কুণাল ঘোষ বলেন যে, তিনি বারবার এই ধরনের সুবিধাবাদীদের লবিবাজি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক করেছিলেন। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকাল দলের লড়াকু ও বিশ্বস্ত সৈনিকদের কোণঠাসা করে এই সুযোগসন্ধানী লোকেদের মাথায় তুলে রেখেছিলেন। তাঁর তোপ, “এক সময় তিনিই এইসব লোকেদের মাথায় তুলেছেন। মমতাদির এটাই প্রাপ্য ছিল। এই লোকটার জন্য অনেক যোগ্য লোক দলে বঞ্চিত হয়েছে। তাপস রায়, সজল ঘোষকে অত্যাচার করে দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।” তবে কুণাল এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের এই চরম ভগ্নদশাতেও তিনি দলবদলু হবেন না এবং পরাজিত নেত্রীর পাশেই সাধারণ কর্মী হিসেবে লড়াই জারি রাখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্যের কারণে দলের বহু পুরনো ও খাঁটি কর্মী দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা ছিলেন। উত্তর কলকাতার দাপুটে নেতা তাপস রায়দের যেভাবে অপমান সহ্য করতে হয়েছিল বা দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, কুণাল ঘোষের আজকের বয়ানে তার নেপথ্যের অভ্যন্তরীণ সমীকরণটি স্পষ্ট হয়ে গেল। আজ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই যখন ক্ষমতার আলো নিভতেই বিজেপির দরজায় কড়া নাড়ছেন, তখন প্রমাণিত হয়ে গেল যে তৃণমূলের একাংশের নেতাদের লক্ষ্য ছিল কেবল ক্ষমতার তোষণ করা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি যাত্রা স্রেফ শুরু মাত্র। বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই তৃণমূলের লোকসভা এবং রাজ্য স্তরের সংগঠনে এক বিশাল ধস নামতে চলেছে। যে দলের শীর্ষ নেতারা ক্ষমতার আলো নিভতেই একে অপরের বিরুদ্ধে এভাবে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এবং খোদ নেত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল তুলছেন, সেই দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।