প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলটির ভেতরের একনায়কতন্ত্র এবং অহংকারী সংস্কৃতির আসল কঙ্কালটা এবার প্রকাশ্য রাস্তায় টেনে বের করে দিলেন খোদ তৃণমূলেরই শীর্ষ মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পিসি-ভাইপোর তথাকথিত “জনদরদী” ভাবমূর্তি যে আসলে নিছকই এক প্রহসন, তা প্রমাণিত হয়ে গেল শনিবার। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক এবং তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে নিয়ে কুণাল ঘোষ যা বলেছেন, তা কোনো বিরোধী দলের সাজানো অভিযোগ নয়, স্বয়ং দলের অন্দরের এক জ্বলন্ত সত্যি।সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য—”সুমিতকে খুশি না করলে অভিষেকের টাইম পাওয়া যেত না।” এই একটি বাক্যই স্পষ্ট করে দেয় যে, দলটিতে সাধারণ কর্মীদের বা নিষ্ঠাবান নেতাদের কোনো দাম নেই। সেখানে তথাকথিত ‘যুবরাজ’ বা ‘ভাইপো’-র দেখা পেতে গেলেও তাঁর পিএ-কে আগে “খুশি” করতে হতো। কুণালের এই ‘খুশি করা’ শব্দবন্ধের আড়ালে কোন রহস্য বা আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
এই গোটা বিবাদের মূল উৎস হলো পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার এক মারাত্মক মামলা। অভিযোগ, সরকারি জমি দখল এবং চরিত্র বদল করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা ও তোলাবাজি চালানো হয়েছে, যার সাথে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি বিশ্বস্ত আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। সুমিতের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শনিবার কাকভোরে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ! দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালালেও সুমিতের দেখা মেলেনি। পুলিশের এই নজিরবিহীন অ্যাকশনের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ নিজেই এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন, “সেই ফেরেব্বাজগুলো কোথায়?” তিনি দাবি করেছেন, সুমিত রায়ের মতো উপাদানই দলটার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আইন এবং তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে এই প্রভাবশালী পিএ এখন সম্পূর্ণ বেপাত্তা। সুমিত রায়ের এই হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে কুণাল ঘোষ পুলিশকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, “সুমিত রায় ফ্যান ক্লাব ইয়ার্কি হচ্ছে, সেগুলোকে একবার পুলিশ কান ধরে টেনে আনুন।”
এই কোন্দলের আবহে আরও বড় প্রেক্ষাপট হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলা। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ—দুজনকেই ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে। এই আইনি সাঁড়াশী চাপের মাঝেই কুণাল ঘোষের এই সরাসরি আক্রমণ প্রমাণ করছে যে, দলের শীর্ষস্তরে ভাঙন এখন অনিবার্য।
এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি সহ বিরোধী রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, পাপের ঘড়া পূর্ণ হলে যা হয়, তৃণমূলের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটছে। যে দলের নেতারা একের পর এক কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় উঠছেন, সেখানে একজন পিএ-কে সন্তুষ্ট না করলে নাকি নেতার দেখা মেলে না! এই তোলাবাজি, অহংকার ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতিই প্রমাণ করে যে বাংলায় জনমানসে এদের আসল রূপ সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়ে গেছে। কুণাল ঘোষ নিজেকে যতই খাঁটি সৈনিক প্রমাণ করার চেষ্টা করুন না কেন, আসলে মমতা-অভিষেকের এই ব্যক্তিগত কোম্পানিটি এখন ভেতর থেকে একেবারে ফোকলা হয়ে গেছে এবং এটি এখন স্রেফ সময়ের নিয়মে ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়।