প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোট মেটার দীর্ঘ ২ মাস পর যখন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বহুল চর্চিত ‘এক ডাকে অভিষেক’ হেল্পলাইন ফের চালু করলেন, তখন মনে করা হয়েছিল দল বুঝি একসুরে তাঁর পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই ধারণায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ। অভিষেকের এই নয়া ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নিয়ে কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই এখন তীব্র জল্পনা ও রহস্য দানা বেঁধেছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে।

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ সরাসরি এই কর্মসূচিকে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে সিলমোহর দিতে অস্বীকার করেন। অত্যন্ত মেপে মেপে শব্দ প্রয়োগ করে তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে এটা করতেই পারেন। তবে এটা কি দলের একটা সামগ্রিক ভাবে কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন, নাকি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও উদ্যোগ—আমি যেহেতু জানি না, তাই না জেনে কোনও মন্তব্য করব না।”

কুণাল ঘোষের মন্তব্যের সবচেয়ে রহস্যময় অংশটি ছিল দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের বা ওয়ার্কিং কমিটির কোনও বৈঠকে এই ধরনের হেল্পলাইন চালু করা নিয়ে কোনও আলোচনা বা এজেন্ডা ছিল না। সেই সঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, এমন আইনি সহায়তার উদ্যোগ অন্য নেতারাও নিজের মতো করে নিচ্ছেন। কুণালের কথায়, “হেল্পলাইন কল্যাণবাবুও করেছিলেন। সব নেতারাই যার যার মতো করে আছে”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২৬-এর নির্বাচনের ধাক্কার পর তৃণমূল যখন এমনিতেই আত্মসমীক্ষার পথে হাঁটছে, তখন কুণাল ঘোষের এই ‘দূরত্ব বজায় রাখা’ বয়ান অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। কুণালের এই মন্তব্য কি কেবলই এক সাধারণ সাংগঠনিক অসন্তোষ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে মমতা-শিবির বনাম অভিষেক-শিবিরের কোনও গভীর মনস্তাত্ত্বিক ঠান্ডা লড়াই? দলীয় মুখপাত্র হয়েও খোদ সেনাপতির হেল্পলাইন চালুর খবর কেন কুণাল ঘোষের জানা থাকবে না, এখন সেই বড় প্রশ্ন ঘিরেই তোলপাড় বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দ।